কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধির কার্যালয়ে তালা ভেঙে মালামাল লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—দাউদকান্দি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দোনারচর গ্রামের বাসিন্দা রায়হান সরকার শুভ (২৭), পিতা আব্দুল করিম মুন্সী এবং মো. আশিকুল ইসলাম শান্ত (২৭), পিতা মো. শাহিন মিয়া। গত ৫ আগস্ট ভোররাত ৫টার দিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে মালামাল চুরির ঘটনায় বাদী মো. সাহাব উদ্দিন গত ১১ জুলাই দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলাটি ৪৫৪/৩৮০ ধারায় রুজু হওয়ার পর তিনি তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীর সরবরাহ করা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের শনাক্ত করা হয়। পরে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও শনাক্তকরণের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে রায়হান সরকার শুভ ও মো. আশিকুল ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান এসআই মনির হোসেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মামলার বাদী মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অফিসের তালা ভেঙে ডিজিটাল সাইনবোর্ড, ক্যামেরা, বুম, ল্যাপটপসহ অফিসে থাকা বিভিন্ন মালামাল একাধিক ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অফিসে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, “এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; এটি গণমাধ্যমের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।” ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গ্রেপ্তার আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং লুট হওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।