কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও থামছে না গরু পাচার। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে আনা গরু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি রাস্তার মাথা এলাকায় মহাসড়কে সরেজমিনে গরু পরিবহনের এই দৃশ্য দেখা যায়।
এ সময় ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা দেখে একটু থামার পর সটকে পড়ে।
জানা যায়, প্রতি বছর ঈদ ঘনিয়ে এলে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশের চেষ্টা বাড়ে। চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। বিজিবির নজরদারির ফাঁক গলে সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করছে। পরে এসব গরু মহাসড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর, বৈদ্দ্যেরখীল, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল এবং সদর দক্ষিণের পূর্ব জোড়কাননের কয়েকটি স্পট দিয়ে গরু আনার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তে টহল বাড়লেও কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সুযোগ বুঝে সীমান্ত এলাকা থেকে গরু এনে দ্রুত মহাসড়কে তুলে দেয়। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন,কড়া নজরদারির পাশাপাশি মহাসড়কেও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা না হলে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।
পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিনুল বলেন, কুরবানির পশুর বাজারকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও যৌথ অভিযান জোরদার না করলে গরু পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চোরাচালান রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তবাসীকেও সতর্ক করা হয়েছে। যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।