পঞ্চগড় প্রতিনিধি : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ইসলাম বিএনপির অনুরোধেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল। কারণ সে সময় জামায়াতের নিবন্ধন ছিল না এবং জোটগত সম্পর্কের কারণেই এক প্রতীকে ভোট করা হয়েছিল। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি-এই প্রশ্নের জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে। অতীতে বিএনপি নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করছে।
শনিবার ৯ মে বিকেলে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদে এনসিপি ছাড়া সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি এবং ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ ঘোষণার পর একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় চার মাস বিএনপি কোনো আপত্তি না তুললেও সরকার গঠনের পর তারা সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে অবস্থান বদলেছে।
তিনি বলেন, যারা গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তারা এখন গণভোটের বৈধতা অস্বীকার করছেন। অথচ গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটকে আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ জুলাই সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও গণভোটে সে সুযোগ ছিল না। গণভোটে জনগণ সরাসরি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির আপত্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন একই সঙ্গে দলীয় প্রধান থাকতে না পারেন, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে আলাদা সার্চ কমিটি গঠন, বিচারপতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মতো প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন না হলে জুলাইয়ের রক্তদান বৃথা যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছামতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি করবে।
পার্লামেন্টের আগামী অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংঘাত চাই না, সহিংসতা চাই না। সংসদের ভেতর থেকেই গঠনমূলক উপায়ে সমাধান চাই।