তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো ইউনুস আলী ও সদস্য মো আবু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির কারণে ইউএনও বরাবরে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের অভিযোগ।
জানা যায় সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের পুরান খালাস গ্রামের মৃত সাহের আলীর ছেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আব্দুল করিম এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভোক্তভোগী কৃষক আব্দুল করিম অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩নং ওয়ার্ডে দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রালয়ের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কার্ড বিতরণে ৩ নং ইউপি সদস্য মো আবু মিয়া ও জামায়াতের চেয়ারম্যান হাজী মো ইউনুস আলীর যোগসাজশে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে চেয়ারম্যান সাহেবের আপন ভাই ধনাঢ্য ব্যক্তি ইসমাইল সহ
তারা তাদের আত্মীয় স্বজনদের নাম তালিকায় দিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ ৩নং ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪৫ জন কৃষকের কার্ড বিতরণকালে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত অধিকাংশ কৃষকরাই বঞ্চিত এবং প্রবাসী -ব্যবসায়ি ধনাঢ্য ব্যক্তির সংখ্যাই বেশি।চেয়ারম্যান-মেম্বারের আত্মীয় স্বজনরা কৃষক সেজে কার্ড নিয়ে সুবিধা ভোগ করছেন। মেম্বার আবু মিয়া নিজে যাচাই বাছাই করে আমার নাম সহ তালিকা প্রনয়ন করে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে জমা দেওয়ার পর সেই তালিকা উপজেলায় জমা দেয়া হয়। পরবর্তীতে তালিকা অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি কার্ড আসার পর চেয়ারম্যানের যোগসাজশে আবু মিয়া মেম্বার নিজে আমার টাকা উঠাইয়া নিয়া আমাকে একটি রশিদ প্রদান করে যার নং ১৬৮৬। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখি আমার নাম কাটা। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে জানালে তিনি আমাকে পাগল বলে তাড়িয়ে দেয়। এতে করে এলাকার অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকায় না আসায় ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা সহ প্রশাসনিক উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সুস্পষ্ট তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত করার জোর দাবী জানান। পাশাপাশি চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনিয়ম-দূনীর্তি ও স্বজন প্রীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানাই।
৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো আবু মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ৬শত জন কৃষকের তালিকা প্রনয়ন করে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে জমা দেই। পরে ১৪৫ জন কৃষকের নাম তালিকায় আসে। আব্দুল করিমের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। তাই সে কৃষি কার্ড পাননি। তার ভাই পেয়েছে। সবাইকে তো দেয়া সম্ভব নয়।
চেয়ারম্যান হাজী মো ইউনুস আলী বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে ৩৬০৭ জন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা প্রনয়ন করে উপজেলায় জমা দিয়েছি কিন্তু ১৭০০ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছি। সেই তালিকার মধ্যে আব্দুল করিমের নাম ছিল না। তার ভাই পেয়েছে। পরিবারের সবাইকে তো দেয়া সম্ভব নয়। আমার ভাই কৃষক তাই সে পেয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো মুহিবুল ইসলাম বলেন, আব্দুল করিম অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিল কিন্তু পরে আর তাকে খুজে পাইনি।










