ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে জেলা পুলিশের কীট প্যারেড অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অসুস্থ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে এমপি মিলন লিটুর চরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫ পরিবার পেল সরকারি ত্রাণসামগ্রী, বাঁধ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ দোয়ারায় বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভা জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু রাজিবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত শাল্লায় মহাসমারোহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত তেঁতুলিয়ার মাগুরমারী সীমান্ত থেকে ৪ জন রোহিঙ্গা  আটক  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

শাল্লায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছ কাঁটার অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে দাবি অভিযুক্ত শিক্ষকের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো অপসারণ করে ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন তিনবারের শ্রেষ্ঠ এই প্রধান শিক্ষক।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাজী সঞ্জব আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গাছ কাটা দেখেছেন। তবে এই গাছের ব্যাপারে তিনি নিজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইউএনও-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে গাছ কাটার পেছনের মূল ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নতুন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি মেগা ‘হাওর প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, একটি মাল্টিপারপাস ভবন, বাউন্ডারি এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই স্কুলের অভ্যন্তরের ৪টি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেকই তা কাটা হয়, কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে স্কুলের শিক্ষক আবাসন (বাসা), দোকান মেরামত এবং পাঠাগারের শোকেজ ও কেবিনেট বানানোর জন্য কাঠগুলো রাখা হয়েছে। গাছগুলো এক ব্যক্তি কিনতে চেয়েছিল, কিন্তু স্কুলের কাজের স্বার্থে তা বিক্রি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে একটি মহল তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করতে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর কারিগরি শাখা খোলা, ফলাফল উন্নয়ন এবং একাডেমিক ভবনের উন্নয়নসহ অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে যা আগে কখনো হয়নি বলে দাবি করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক বর্তমানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন। এ বিষয়ে আমি সরাসরি কোনো কিছু জানি না, লোকমুখে শুনেছি। তাঁর সঙ্গে এখনো আমার সরাসরি কথা হয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি জেনে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।”

অন্যদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না, এখন অবগত হয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শাল্লায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছ কাঁটার অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে দাবি অভিযুক্ত শিক্ষকের

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো অপসারণ করে ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন তিনবারের শ্রেষ্ঠ এই প্রধান শিক্ষক।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাজী সঞ্জব আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গাছ কাটা দেখেছেন। তবে এই গাছের ব্যাপারে তিনি নিজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইউএনও-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে গাছ কাটার পেছনের মূল ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নতুন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি মেগা ‘হাওর প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, একটি মাল্টিপারপাস ভবন, বাউন্ডারি এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই স্কুলের অভ্যন্তরের ৪টি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেকই তা কাটা হয়, কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে স্কুলের শিক্ষক আবাসন (বাসা), দোকান মেরামত এবং পাঠাগারের শোকেজ ও কেবিনেট বানানোর জন্য কাঠগুলো রাখা হয়েছে। গাছগুলো এক ব্যক্তি কিনতে চেয়েছিল, কিন্তু স্কুলের কাজের স্বার্থে তা বিক্রি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে একটি মহল তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করতে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর কারিগরি শাখা খোলা, ফলাফল উন্নয়ন এবং একাডেমিক ভবনের উন্নয়নসহ অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে যা আগে কখনো হয়নি বলে দাবি করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক বর্তমানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন। এ বিষয়ে আমি সরাসরি কোনো কিছু জানি না, লোকমুখে শুনেছি। তাঁর সঙ্গে এখনো আমার সরাসরি কথা হয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি জেনে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।”

অন্যদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না, এখন অবগত হয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”