মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর ই আলম এর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিষ্ঠান হতে বেতন ভাতা গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, জ্বালানি তেলের খরচ অতিরিক্ত নেয়া ও ভিজিডি চাল পরিবহনের ভাড়া অবৈধভাবে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন দামুপাড়া এলাকার ফরিদার রহমান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একই সাথে হাড়িভাসা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক। পরিষদ থেকে সম্মানি ভাতা এবং উপজেলা ভাতা গ্রহণ করেন,এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ২৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখের ৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.২২০.২৬/৯৯৯ নং স্মারক পত্র মোতাবেক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা একই সাথে চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানীভাতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না মর্মে ব্যখ্যা প্রদান করেন।
সেহেতু ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর একই সাথে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করা দুর্নীতি, অর্থ অত্মসাত ও আইন বহিঃর্ভুত কাজ।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ২য় পর্যায়ে প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ায় ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়নে ১টি মোটর সাইকেল প্রদান করা হয়। মোটরসাইকেলটি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর গ্রাম আদালতের কাজে ইউনিয়ন পরিষদের নিজেস্ব সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করবেন।কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইয়েদ নূর-ই আলম তার বাসায় রেখে ব্যক্তিগত পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন। হিসাব সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহাদাত হোসেন যোগদানের পর মোটরসাইকেলটি পরিষদে দেখেননি বলেও তিনি জানান।
এ দিকে ভিডাব্লুবিউ (ভিজিডি) চাল পরিবহনের গত বছরের জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের পরিবহন ভাড়া পরিষদের হিসাব থেকে ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।যদিও পরিবহন খরচ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা জ্বালানি খরচ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত কয়েকমাস ধরে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর- ই- আলম জানান,মাদ্রাসায় চাকুরি করি এজন্য বেতন নেয়া হয়। আর পরিষদের বেতনভাতা সরকার দেয়, না দিলে নিবোনা। এটার ব্যাখ্যা ইউএনও অফিস দিতে পারবেন।চেয়ারম্যানদের জ্বালানি ৭০০ টাকায় হয়না। যখন যত খরচ হয় আমি সেই টাকা নেই। মোটর সাইকেলটি পরিষদে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল, এ জন্য বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছে। সচল রাখার জন্য মাঝে মাঝে একটু চালানো হয়।
তবে বিষয় গুলো খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা।