মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে ডাঃ ইকবালের পদায়ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা (এনপিএস) এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট হবিগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদিত আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অভূতপূর্ব সাফল্য ৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ তেঁতুলিয়ায় এক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জনসহ পঞ্চগড়ে ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসিতে পাস করেনি কেউ সুনামগঞ্জে এসএসসির সার্বিক পাসের হার ৫৩.৮৮%: শীর্ষে সদর, পিছিয়ে শাল্লা-তাহিরপুর আদালতে ভাঙচুর ও বিচারকের ওপর হামলার প্রতিবাদ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল শিবগঞ্জে এসএসসিতে এক বিষয়ে ফেল, বিষপানে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা সাংবাদিক বাহার রায়হান ও রোকসানা আক্তারের কন্যার গৌরবময় সাফল্য গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন বরুড়ায় শিশু-কিশোর ও নারী উন্নয়নে জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক

সুনামগঞ্জে এসএসসির সার্বিক পাসের হার ৫৩.৮৮%: শীর্ষে সদর, পিছিয়ে শাল্লা-তাহিরপুর

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

১০ আগষ্ট সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, মেধার স্বাক্ষর ও পাসের হার উভয় সূচকেই জেলার বাকি ১১টি উপজেলাকে পেছনে ফেলে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। আর সদর উপজেলার এই চোখধাঁধানো সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবেই নেতৃত্ব দিয়েছে শহরের নামকরা দুই বিদ্যাপীঠ সরকারি এস. সি. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন স্বাক্ষরিত অফিশিয়াল প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার ৩টি ধারা মিলিয়ে সর্বমোট ২৩,৪০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১২,৬১৪ জন। সার্বিক পাসের হার ৫৩.৮৮% এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন শিক্ষার্থী। এসএসসি সাধারণ শাখায় জেলার ১২টি উপজেলা থেকে মোট ১৮,২৭২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১০,০০০ জন কৃতকার্য হয়েছে, যা শতকরা পাসের হারে ৫৪.৬৭%। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জনে জেলার মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা।

সুনামগঞ্জ সদরে ২,৪৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১,৬২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৬৫.৭৮%) এবং এককভাবে সর্বোচ্চ ১৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছাতক উপজেলায় ৩,১৮৭ জন অংশ নিয়ে ১,৬৫৯ জন পাস করে (পাসের হার ৫২.০৫%), যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে দিরাইয়ে ৩৯ জন (পাসের হার ৪৯.৬২%), দোয়ারাবাজারে ৩৯ জন (৪৭.৮৬%), ধর্মপাশায় ২৯ জন (৫২.২৫%), জামালগঞ্জে ২৮ জন (৫৩.৪৭%), মধ্যনগরে ২৮ জন (৬১.১৩%), জগন্নাথপুরে ২৩ জন (৫৩.০৬%), বিশ্বম্ভরপুরে ২৩ জন (৫৪.৪১%), শাল্লায় ১১ জন (৫৫.৭৮%) এবং তাহিরপুরে ১১ জন (৪১.১৮%) শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় জেলায় ৩,৯৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ২,০১৪ জন। এই শাখায় পাসের হার ৫০.৫৯% এবং পুরো জেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২৫ জন পরীক্ষার্থী। পাসের হারের দিক থেকে মধ্যনগর উপজেলা শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১.৯২% (৫৭ জন) পাস করেছে। অন্যদিকে সদর উপজেলায় ৭৯.০১% পাসের হারসহ সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

দাখিলে শাল্লা উপজেলার ফলাফল চরম বিপর্যয়মুখী। ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন, যার ফলে পাসের হার নেমে এসেছে ২৫.০০%-এ। ছাতক উপজেলায় ৪২.৫৫% এবং জামালগঞ্জে ৪৯.৩৭% পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। সদরের ১০ জন ছাড়া ছাতকে ৪ জন, ধর্মপাশায় ৪ জন, বিশ্বম্ভরপুরে ৩ জন, তাহিরপুরে ৩ জন এবং জগন্নাথপুরে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও মধ্যনগর এই ৬টি উপজেলায় দাখিলে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

কারিগরি শাখার এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১,১৫৬ জন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৫১.৩৭%। ভোকেশনাল শাখায় পুরো জেলায় মাত্র ৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দিরাই উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬১.১১% শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে ৪৮.১৩%, ছাতকে ৪৫.৬৭%, জগন্নাথপুরে ৪৮.৯৫%, শাল্লায় ৪০.০০%, বিশ্বম্ভরপুরে ৪৫.৬২% এবং ধর্মপাশায় ৫৭.৮৫% পরীক্ষার্থী পাস করেছে। ছাতক ও ধর্মপাশায় ২ জন করে এবং সদর, জগন্নাথপুর, শাল্লা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ফলাফলের সার্বিক চিত্র, জেলা সদরের ভালো পারফরম্যান্স এবং প্রান্তিক উপজেলার ফল বিপর্যয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন বলেন, সদর উপজেলার সাফল্য নিশ্চিতভাবেই আনন্দদায়ক। বিশেষ করে সরকারি এস. সি. বালিকা ও জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক সুনাম জেলাকে এগিয়ে রাখছে। তবে শাল্লা, দিরাই বা তাহিরপুরের মতো হাওরবেষ্টিত উপজেলাগুলোর ফলাফলের চিত্র আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানের মান বাড়াতে আমরা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশেষ তদারকি পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
Web Design By Khan IT Host