শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তেঁতুলিয়ায় টিনের চাল থেকে বল পাড়তে যেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু সুনামগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের গাছ কর্তনের অভিযোগ শহরের জলিলপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু  সাগর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ল রাজা ইলিশ কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতির স্মরণে স্মরণসভা মিলাদ ও দোয়া আঙ্গারিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার খানের মতবিনিময় সভা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে গফরগাঁওয়ের প্রবেশ মুখে কোরআনিক রুকাইয়া সেন্টার’-এর নামে প্রতারণার অভিযোগ বিডি ক্লিনের উদ্যোগে শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সৃজনশীল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বন্ধুর সাথে ছাত্রীকে প্রেমে বাধ্য করার অভিযোগ

Reporter Name
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর ইউনিয়নের আমপাড়া বাজারের একটি মার্কেটের ছোট্ট ছোট্ট দোকান কোঠায় সৃজনশীল মডেল স্কুলের পাঠদান সহ প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছালিক আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যম ফেইসবুকে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে তার বকাটে বন্ধুর সাথে প্রেমে বাধ্য করা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমপাড়া বাজারের পাশেই ন্যাশনাল মডেল স্কুল নামে একটি মানসম্মত বিদ্যাপীটে মোহাম্মদ ছালিক আহমদ সুমন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ছাত্রীর সাথে প্রেমে ধরা পড়ার পর বিয়ে করে বর্তমানে সংসার করছেন। এই ঘটনার পর পরেই স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনকে। পরবর্তীতে সে এলাকার প্রভাবশালী জামায়াত নেতা রহিম মাস্টার ও ফারুক মিয়াকে নিয়ে পাঠদানের অনুপযোগী মার্কেটের ছোট্ট ছোট্ট দোকানে পাঠদানের পাশাপাশি ছাত্রীদেরকে ইভটিজিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। তার বন্ধু বকাটে ফারাবী আলমগীর প্রায়ই বন্ধুত্বের সূত্রে স্কুলে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তিনি দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে পছন্দ করেন এবং বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনকে জানান। এরপর প্রধান শিক্ষক তার দায়িত্ব ও অবস্থানের প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্রীর সঙ্গে আলমগীরের যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। যদিও ছাত্রীটি শুরু থেকেই অনিচ্ছুক ছিল, তবুও বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে তাকে কথা বলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে স্কুলের সভাপতি ফারুক মিয়ার মাধ্যমে আলমগীরের পক্ষ থেকে ছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে ছাত্রীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকেই ছাত্রীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি শুরু হয় বলে জানা যায়। ছাত্রীর পরিবার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আলমগীর প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনের মাধ্যমে মেয়েটিকে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করতে চাপ দিতে থাকেন। ছাত্রীটি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে একাধিকবার শ্রেণীকক্ষের সামনে অপমান ও লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ উঠেছে।

আরো জানা যায়, এসব ঘটনার কারণে ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। বিষয়টি সে তার পরিবারকে জানায়। পরিবারটি স্কুলের সভাপতির কাছে অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। ফারাবী আলমগীর স্কুলের সভাপতি ফারুক মিয়ার আত্মীয়। আলমগীর একটি মোবাইল ফোন ও দুটি থ্রি-পিস প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে পাঠান। প্রধান শিক্ষক স্কুলের অপর এক ছাত্রীর মাধ্যমে সেগুলো পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথমে সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও তাকে চাপ দিয়ে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয় এবং আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে ছাত্রীটি বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যে ছাত্রীর মাধ্যমে উপহারগুলো পাঠানো হয়েছিল, তাকে সতর্ক করতে যান। এ সময় ওই ছাত্রীর বাবা বিষয়টি জানতে পেরে সমাধানের উদ্দেশ্যে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে তাদের বাড়িতে ডাকেন।

বাজারের আরেক ব্যবসায়ি জানান, ছালিক সুমন স্কুলের অনেক ম্যাডামকে উক্তাক্ত করার চেষ্টা করেন।

চলমান বিষয় নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন জেগেছে একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে তার প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রীকে তার বন্ধুর সাথে প্রেম করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শিক্ষকতা পেশার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

মেয়ের চাচা প্রবাসী আবুল কালাম জানান, আমপাড়া বাজারে ভাড়াটিয়া মার্কেটের দোকান ঘরে সৃজনশীল মডেল স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমার ভাতিজি। সে পড়াশোনায় ভালো ছিল কিন্তু অসভ্য প্রধান শিক্ষকের ইভটিজিংয়ের কারণে মেয়েটিকে আর পড়াতে পারলাম না। বিষয়টি আমি স্কুলের উপদেষ্টা রহিম মাস্টারের কাছে বিচার প্রার্থী হলে তিনি বাজে মন্তব্য করে বলেন ভালো লাগলে এই স্কুলে তুমার ভাতিজিকে পড়াও নয়তো বাড়ি নিয়ে যাও। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ২০ জুলাই স্থানীয় আমপাড়া বাজারে একটি শালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রহিম মাস্টার ও মোহাম্মদ আলী মাস্টার মিলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ খেয়ে শালিশ বৈঠক বানচাল করেছে। নিরুপায় হয়ে এই বিষয়টি আমি মন থেকে বাদ দিয়ে ফেলেছি। এটা নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাই না।

সৃজনশীল মডেল স্কুলের উপদেষ্টা রহিম মাস্টার বলেন, আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমন একজন ভালো মানুষ। মেয়েটি খুবই অসভ্য। প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমন কর্তৃক ছাত্রীকে বকাটে বন্ধু ফারাবী আলমগীরের প্রেমের প্রস্তাব, ইভটিজিং এবং বান্ধবীকে দিয়ে একটি মোবাইলফোন ও দুটি থ্রী-পিছ সেট দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। শালিশ বৈঠক বানচাল করার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে নেয়া ৪০ হাজার টাকা ঘুষের বিষয়টিও সত্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ব্যবসায়ি জানান, মঙ্গলকাটা ইসলামপুর সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ গরু-চিনি,মাদক নিয়ে আমপাড়া হয়ে যাওয়ার সময় রহিম মাস্টার গংরা জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকেন। উনি দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে শালিশে এক পক্ষকে বিজয়ী করেন।

শিক্ষানুরাগী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রামের সর্ব প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো ন্যাশলাল মডেল স্কুল। ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন বকাটে ছালিক সুমন। তিনি প্রধান শিক্ষক থাকাবস্থায় ছাত্রীর সাথে প্রেম করতে গিয়ে ধরা খেয়ে পরবর্তীতে বিয়ে করে সংসার করছেন। এই ঘটনার পর পরেই প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিছুদিন পরে অত্র এলাকার প্রভাবশালী জামায়াত নেতা রহিম মাস্টার ও ফারুক মিয়াকে নিয়ে পাঠদানের অনুপযোগী বাজার মার্কেটের ছোট ছোট দোকান কোঠায় সৃজনশীল মডেল স্কুল তৈরি করে এসমস্ত নোংরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনের সঙ্গে স্কুলে দেখা হলে তিনি বলেন ছালিক সুমন স্যার বিয়ের একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে গেছেন বলে তিনি পালিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
Web Design By Khan IT Host