কুমিল্লা প্রতিনিধি : কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা নিয়েই বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত একত্রিশ দফার অধিকাংশই ছিল কৃষিকেন্দ্রিক এবং দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষির উন্নয়ন ঘটলে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
সোমবার (২৫ মে) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি এবং হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই কৃষকের উন্নয়নে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে।
কৃষকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, অতীতে কৃষকরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন কৃষকের নামে ঋণ নিয়ে অন্যরা সেই সুবিধা ভোগ করেছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে কৃষকদের বের করে আনতে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাঁচা চামড়ার বাজার ও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “চামড়ার সিন্ডিকেট” কথাটি অনেকাংশেই প্রচলিত ধারণা। বাস্তবে এখানে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য। সময়মতো ও সঠিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার না করলে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এই ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ট্যানারি মালিকরাও বেশি দামে চামড়া কিনবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে কোরবানির সময় সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বি-গ্রেডের হয়ে থাকে। পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর সময় অসতর্কতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়। এ বছর কতটুকু চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষকে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা অঞ্চলের তিন জেলায় মোট ৩ হাজার ৪৩২টি কৃষক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলায় গঠন করা হয়েছে ৫৫টি কৃষক গ্রুপ। এসব গ্রুপের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১৪টি গ্রুপের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়।
এর মধ্যে ম্যাজিক পাইপসহ ডাবল নজল ন্যাপস্যাক হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ধান কর্তন যন্ত্র, ক্যানভাস হোস পাইপ সেটসহ এলএলপি এবং ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র বিতরণ করা হয়। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কৃষক গ্রুপগুলোর মাঝে আরও ফুট পাম্প, বেড প্ল্যান্টার ও ধান মাড়াই যন্ত্র বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এদিন অনুষ্ঠানে কৃষকদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্যানানা জাতের আমের কলমও উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন, তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।