টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ তিনটি ফিশিং ট্রলার জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
১৭ মে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাটে এক প্রেসব্রিফিংয়ে মাধ্যমে শাহপরীরদ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোঃ মুত্তাকীন সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার ১৬ মে দিনব্যাপী পরিচালিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড শাহপরীরদ্বীপ আউটপোস্ট ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব ট্রলার, সিমেন্ট ও পাচারকারীদের আটক করা হয়।
শাহপরীরদ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোঃ মুত্তাকীন সিদ্দিকী জানান, শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ফিশিং ট্রলারে থাকা মোট ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসময় ট্রলার গুলোতে থাকা ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রামে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিমেন্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মায়ানমারের একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জব্দ করা সিমেন্ট, ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পাচার ও চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে সিমেন্টবোঝাই তিনটি ট্রলারসহ ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আটককৃতরা হলেন, ভোলা জেলার মোঃ হান্নান (৪৫), মোঃ রিপন (২৩), মোঃ আব্দুল হালিম (২৯), মোঃ শিফন (২২), আব্দুল হালিম (২৮), মোঃ শাহিন (১৯) ও মোঃ রুবেল (২৫); লক্ষীপুর জেলার মোঃ জুয়েল (২০), মোঃ রিয়াজ (২৬), মোঃ সবুজ (২২), মোঃ সোলেমান (৪১), আনোয়ার হোসেন (৪৩), মোঃ শাহিন (২৮), মোঃ আক্তার হোসেন (২২) ও মোঃ হোসন (৪০); কক্সবাজার জেলার জমির উদ্দিন (৩৫), সাহাবুদ্দিন (৪৫), মোঃ মনির (৩৫), মোঃ রুবেল (২৬) ও মোঃ ফারুক (২৬); চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মোঃ সরোয়ার (৩৪), চন্দনাইশের মোঃ তৌহিদ (২২), সন্দ্বীপের মোঃ শিপন (৫১) ও আলাউদ্দিন (২০), আকবরশাহ এলাকার মোঃ সোহাগ (৩৪), মোঃ নাদিম (৩০), মোঃ জনি (৩১), সাদ্দাম (২৪), মিরসরাইয়ের আব্দুল করিম (৪২), মাঈনউদ্দীন (৪৭) ও মোস্তাকিন আরাফাত (২২); কুমিল্লা জেলার মোঃ শরিফ (২২) এবং সিলেটের মোঃ ফাহাদ (২৩)।