আতাউর রহমান, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের একটি ব্রীজ গত ৪ বছরেও নির্মান কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি ধরে রেখেছেন। কাজ শেষ করার কোনো তাড়া নেই তার। ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ, কোনো তদারকি নেই অভিযোগ এলাকাবাসীর। ফলে পাটাদহপাড়া, গোয়ালপাড়াসহ ৫ গ্রামের মানুষের দুর্দশা চরমে।
জনপ্রতিনিধি এমনকি উপজেলা প্রশাসন সবাই যেন একটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে বসে আছে।
একটা জনগুরুত্বপুর্ন বিষয় যেন কারও কোনো দায় নেই! এলাকাবাসী যেন এই ভোগান্তির কাছে দায়বদ্ধ, এই দুর্ভোগ যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত ২০২২সালে নভেম্বর মাসে কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪ বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটি নির্মাণ শেষ না করে কালক্ষেপণ করছে ঠিকাদার। অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, পাটাদহ পাড়া ও গোয়ালপাড়া এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে সেতুটি কয়েক মাস বা সর্বোচ্চ এক-দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, সেটি আজ চার বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নামমাত্র কিছু কাজ চললেও প্রকল্পটি শেষ করার কোনো দৃশ্যমান তাগিদ নেই।
প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো, যার সঙ্গে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এ নিয়ে যেন কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবার মাঝে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষের কষ্ট, সময়ের অপচয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় কি কেউ নেবে না?
এলাকাবাসী বিনীতভাবে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তদারকি নিশ্চিত করে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গোয়াল পাড়া গ্রামের আকতার হোসেন সরকার বলেন,হাজারো মানুষের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর দুর্ভোগ যেন কারও বিবেককে স্পর্শ করে না। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব স্বস্তি এনে দেয়।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের পাটাদহ পাড়া ও গোয়ালপাড়ার মানুষ দ্রুত এটির স্থায়ী সমাধান চায়।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিলকিস এন্টারপ্রাইজ এর ঠিকাদার দিলিপ এর সাব ঠিকাদার রাজিব জানান, প্রথম কিস্তিতে ৯০ লক্ষ টাকা বিল সামমিট করেছি। ব্যাংকের সমস্যার কারণে বিল পাইনি বিধায় কাজ বন্ধ রেখেছি। বিল পেলেই কাজ শুরু করব।
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা বলেন, যেহেতু ঠিকাদার কাজটি করছে না। সে কারণে পূর্বের ঠিকাদারী কাজটি বাতিল করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। বাতিল হলে পুনরায় বাকী কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানান।