শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ  বালুগ্রাম  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার   চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২ হাজার বোতল সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২, ট্রাক জব্দ যাদুকাটায় বালু উত্তোলনে যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট ভারতীয় এলসিতে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ অপহরণের দাবি করা শিবির নেতা জিসানকে কারাগারে প্রেরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে প্রশিক্ষক তৈরির কর্মশালা পঞ্চগড়ে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত মসিকের নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ময়মনসিংহে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৫ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান আগামী ১ বছরের মধ্যে শাল্লাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদের
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

যাদুকাটায় বালু উত্তোলনে যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট

Reporter Name
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

মোঃ আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের সর্ববৃহৎ বালু মহাল যাদুকাটা নদীতে চারটি উপজেলার লাখো বারকি শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধের জন্য একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র গত ১৯/৮/২০২৫ ইং তারিখে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন যার আপিল নং-৩৯৭৮-২০২৫ইং দায়ের করলে আদালত সেটি স্থগিত রেখে নদীতে গভীর পানি থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে না পারায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেইভ এবং ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারক ফারা মাহবুব এর আদালত। রিট-পিটিশন নং-৯৯১৭/২০২৪।

এ দিকে যাদুকাটা নদীর ইজারাদার নাসির মিয়া বলেন, চারটি উপজেলার প্রায় লাখো বারকি শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধের লক্ষ্যে একটি স্বর্থানেসী মহল যাদুকাটা বালু মহাল স্থগিত করার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করলে বিজ্ঞ আপিল ব্যাঞ্চের বিচারক তা স্থগিত রেখে নদীতে গভীর পানি থাকার কারণে শ্রমিকরা সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে না পারায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আলোকে সেইভ মেশিন ব্যবহারেরর অনুমতি দিয়েছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই দুটি বালু মহাল ৩৩ কোটি টাকায় লীজ নিয়েছিল সাবেক দুই ফ্যাসিস্ট ইজারাদার রতন মিয়া ও সেলিম আহমেদ গং। কিন্তু এবছর আমরা লীজ নিয়েছি ১০৭ কোটি টাকায়। পাশাপাশি পাড় কাটা রক্ষায় লাউড়েরগড় চরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্বাপনের দাবি জানালে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পুলিশ ক্যাম্পের অনুমতি দেন। নদীতে প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক তিনজন ম্যাজিস্ট্রট,বিজিবি,নৌ-পুলিশ টহল দিয়ে থাকে। তারপরও ওই
দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন লাউড়েরগড় চরের সরকারি বালু লুটপাট করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে পাড় কাটা সহ নদী বন্ধের জন্য রিট পিটিশন দায়ের করে। আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস যাবৎ নদী বন্ধ থাকায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই গেল ছয় মাসের রাজস্ব লেছ দেওয়ার জন্য প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাই।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, সাবেক ইজারাদার যুবলীগ নেতা রতন মিয়া ও দুষ্কৃতিকারী খোরশেদ আলমের লোকজন বাঁধা প্রদান করায় সীমানা নির্ধারণেও বার বার স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা আরো বলেন সাবেক দুই ইজারাদার কর্তৃক উচ্চ আদালতে রিট করে দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ মাস যাদুকাটা নদী বন্ধ রাখে। এতে তিনটি উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নৌ-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি খুবই কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। অনেক
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের রায় আজ কার্যকর হয়েছে। নদীতে বেশি পানি থাকায় আমাদের শ্রমিকরা সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে পারছেন না। তাই সেইভ মেশিনেই আমাদের একমাত্র ভরসা।

শ্রমিক সংঘটনের সাধারণ সম্পাদক সর্দার বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দেখেছি সাবেক দুই ইজারাদার লাউড়েরগড় চর কেটে বিজিবি ক্যাম্পের নিকটে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখরাম স্থানীয় প্রশাসন বর্তমান ইজারাদারকে চর থেকে প্রায় সাড়ে সাতশত ফুট গভীর পানির মধ্যে নিমানা নির্ধারন করে দিয়েছেন। সেখানে সেইভ মেশিন ছাড়া কোন ভাবেই ডুবিয়ে বালু উত্তোলন করা সম্ভব হবে না। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী লোকদের কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস যাবৎ শ্রমিকরা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ করতে পারেননি। এতে ব্যবসায়ি,শ্রমিক এবং ইজারাদার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ইজারাদারের গেল ছয় মাসের ক্ষয়ক্ষতি আগামীতে পুশিয়ে দেয়ার জন্য।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম বলেন,পাড়কাটার ব্যাপারে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করছেন। পাশাপাশি আমার পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নদীতে টহল দিচ্ছেন।

তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাহারুখ আলম শান্তুনু বলেন,পাড়কাটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত আমরা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি। নদীর পাড়ে যদি একটি পিপঁড়েও থাকে তার আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাড়কাটার বিষয়ে নদীতে জিরো টলারেন্স। যে বা যারাই হোক তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031