শিরোনাম :
সোনামসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার রাজিবপুরে ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন যারা  হাওরপাড়ের বাতিঘর : আটগাঁও হাফিজ আলী হাইস্কুলের সাড়ে তিন দশকের আলোকোজ্জ্বল যাত্রা রোদ-ঝড়-বৃষ্টি নেই, পেটের দায়ে ভ্যান চালান ষাটোর্ধ রবিউল সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ; এসপি বরাবরে স্মারকলিপি ইউএনও কাছে টাকা ফেরত চাওয়া তেঁতুলিয়া ওই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর বাবা-মাসহ ‘শুধু হিন্দিভাষী’ বলেই কি পুশ-ইন করা যাবে না? বড়ছড়ায় ব্যবসায়িদের হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন দুমকিতে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত পবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর বাবা-মাসহ ‘শুধু হিন্দিভাষী’ বলেই কি পুশ-ইন করা যাবে না?

Reporter Name
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

এম এ আজিজ : ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলমানদের, বাংলাদেশে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পাঠানোর হচ্ছে। আসাম সরকার মূলত অভিবাসী (আসাম থেকে বহিস্কার) নির্দেশ-(১৯৫০ আইন from Assam Act, 1950) নামক একটি ঔপনিবেশিক আমলের আইন ব্যবহার করে বাংলাভাষী ও কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে।

অভিবাসী বহিস্কার আইন-১৯৫০ করার ১০ বছর আগে ১৯৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির অধিকারী (পূর্বনাম মাখনলাল ভট্টাচার্য) ও মা গায়ত্রী দেবী (পূর্বনাম গায়ত্রী ভট্টাচার্য) নাম পরিবর্তন করে আদি বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাটাজোর গ্রাম ছেড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। শুভেন্দু অধিকারীও ১৯৭০ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁকুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অভিবাসী বহিস্কার আইন-১৯৫০ করার ২০ বছর পর। তাঁর বাবা-মা এখনও জীবিত আছেন।

 

প্রশ্ন উঠেছে,পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারও ১৯৫০ সালের অভিবাসী বহিস্কার আইন অনুযায়ী ‘অবৈধ অভিবাসী’। কারণ তাঁর বাবা-মা বাংলাদেশের আদি বাড়ি বরিশাল ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে গেছেন ১৯৬০ সালের ঔপনিবেশিক আমলের অভিবাসী বহিস্কার আইন, ১৯৫০, এর ১০ বছর পর। শুভেন্দু অধিকারীও জন্মগ্রহন করেছেন ১৯৫০ সালের অভিবাসী বহিস্কার আইন করার ২০ বছর পর। তাহলে শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার ‘বাংলাভাসী হিন্দু’ বলে অবৈধ অভিবাসী হবে না কেন? বা তাদেরকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা যাবে না কেন? ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল ও মানবাধিকার সনদের অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হয়েও শুধু বাংলাভাষী মুসলমানদের ভারত থেকে তারিয়ে দেওয়ার নামই হচ্ছে ‘পুস ইন’।

অপরদিকে, শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন, “আমার মা বরিশাল থেকে এসেছিলেন, হিন্দু নিপীড়নের যন্ত্রণা আমি বুঝি।” অপরদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই শুভেন্দু অধিকারীই মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করে বিজেপি থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভা ও রাজনৈতিক সমাবেশে ‘আসাম মডেল’ অনুসরণ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের চিহ্নিত করার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। গত ১২ মে আসামের গুয়াহাটিতে তিনি বলেছেন, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল, তা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গেও বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদাসীন ছিল এবং বিএসএফকে বর্ডার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি পর্যন্ত দেয়নি।

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে যে, ভারতের প্রাদেশিক সরকার ‘অবৈধভাবে বসবাসকারী’ ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বন্দুকের মুখে বা জোর করে অনেককে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

 

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের শিকার হয়ে অনেকেই—যাঁরা দাবি করছেন তাঁরা ভারতেরই নাগরিক—বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মে ২০২৫ সালে ভারত থেকে ১২০০ জনেরও বেশি মানুষকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে এই ধরনের পুশ-ইন প্রচেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভারতের আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বা কৌশল হিসেবে এই পুশ-ইন চলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাঁরা মনে করেন, ভারত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ। অনেক ক্ষেত্রেই ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকার উভয় পক্ষই পক্ষপাতহীন আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করাই কল্যাণকর।

 

লেখক: এম এ আজিজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930