ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ‘সরকার ফ্যাসিজমের পথে এগোচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন’ : মিয়া গোলাম পরওয়ার জ্বালানি সংকটের দায় আমদানি নির্ভর নীতির কারণেই : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী  নান্দাইল উপজেলা সার ও বীজ ডিলার মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত  টুলবক্সে ৩০ লাখ টাকার ইয়াবা! দেলদুয়ারে সিএনজিসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে পঞ্চগড়ে ঘুরছিল কিশোর, অনুসন্ধানে মিলল রোহিঙ্গা পরিচয় ভুল চিকিৎসায় গর্ভস্থ শিশু মৃত্যুর অভিযোগ : পঞ্চগড়ে পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রীর ‘ফার্মেসি খুলে ডাক্তারি’ রাজিবপুরে সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে ৫ কিশোরীর মৃত্যু

কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযানেও অধরা মাদকের গডফাদাররা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৩৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইয়াছিন মিয়া : কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চললেও অধরা রয়ে গেছে শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদাররা।

র‍্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছে সেবনকারী, ক্যারিয়ার ও খুচরা বিক্রেতারা। কিন্তু সীমান্তের পাঁচ থানায় তালিকাভুক্ত পাঁচ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির কেউ এখনো আইনের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

১৮ আগস্ট অভিযান শুরুর পরও শীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে তাদের অধিকাংশই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

কুমিল্লায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে ১৮ আগস্ট থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযান শুরুর এক মাস আগে থেকেই এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার থাকায় জেলার শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদাররা আত্মগোপনের সুযোগ পায়। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকার সহস্রাধিক মাদক কারবারি জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ফলে পুলিশের তালিকাভুক্ত এসব মাদক কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে দুই শতাধিক খুচরা মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। হাতেনাতে মাদকসহ ধরা পড়াদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আর সেবনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে ২০-৩০টি করে মামলা রয়েছে এবং যারা ভারত থেকে মাদক এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে ডিবির কয়েকটি দল কাজ করছে। গডফাদারদের অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। আবার কেউ কেউ জেলার বাইরে আত্মগোপনে রয়েছে।
এ সব মাদক ব্যবসায়ী কোনো ধরনের ডিভাইস ব্যবহার না করায় প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের আবুল বাশার বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের কেউ এখনো ধরা পড়েনি। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছে। সদর দক্ষিণের দলকিয়া এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান আহমেদ বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের তেমন কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়েনি।

সূত্র জানায়,৬ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়েনের ৯নম্বর ওয়াডের সপ্না বেগম পিতা- বাবুল মিয়া, মোসলেম পিতা আব্দুল জলিল, সুমন পিতা বাবুল মিঞা,আদর্শ সদর উপজেলার জঙ্গলপুরের ইমরান হোসেন, রনি, নুরু মিয়া, শুভপুরের পেয়ার আহমেদ, জামবাড়ীর রাকিব, শাসনগাছার বেবি, ধর্মপুরের রানু বেগম, হান্নান মিয়াসহ অর্ধ শতাধিক কারবারি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সোনা মিয়া, হেলাল, মুখলেছ, রিপন, আলী আকবর, বিল্লাল হোসেন, সামির উদ্দিন, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর মিয়া, রফিকুল ইসলাম,
জাহাঙ্গীর আলম, মামুন মিয়া, বাহাদুর, আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকেই রয়েছেন এ তালিকায়।

বুড়িচং উপজেলার হুমায়ুন মেম্বার, মহসিন, রবিউল ইসলাম রবি, বিল্লাল হোসেন, কাজল খান, ফিরোজ, মো. জসিম উদ্দিন ওরফে মামা জসিম, কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল, মোস্তফা, এসহাক ও হৃদয়সহ অনেকে এখনো গ্রেফতার হয়নি।

সদর দক্ষিণে নাজমুল হাসান, শামীম, শাকিল, রুবেল, ফারুক, সুমন, নুরু, জুলহাস, সাইফুল, আলমগীর হোসেন, শাহীনসহ দুই শতাধিক মাদক কারবারি প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে সূত্রের দাবি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবুল কাশেম, ছোট মোতালেব, বিটু, সুমন, সৈকত, বেলাল, বাবুল, পেয়ার আহমেদ, কামাল ভূঁইয়া, খলিলুর রহমান, মিজান, ভুটু ও হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সূত্র জানায়, মাদকের সরবরাহ চেইন ভাঙতে ছোট বিক্রেতাদের ওপর জোর দেওয়া হলেও মূল গডফাদারদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বহনকারীদের গ্রেফতার করে নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় না আনলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকবিরোধী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি কাউসার আলম সোহেল বলেন, চলমান সাঁড়াশি অভিযানে শীর্ষ গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত দুই শতাধিকের বেশি ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী গ্রেফতার হয়েছে। গডফাদার ও শীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযানেও অধরা মাদকের গডফাদাররা

আপডেট সময় : ১০:১০:৩৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

মোঃ ইয়াছিন মিয়া : কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চললেও অধরা রয়ে গেছে শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদাররা।

র‍্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছে সেবনকারী, ক্যারিয়ার ও খুচরা বিক্রেতারা। কিন্তু সীমান্তের পাঁচ থানায় তালিকাভুক্ত পাঁচ শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারির কেউ এখনো আইনের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

১৮ আগস্ট অভিযান শুরুর পরও শীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে তাদের অধিকাংশই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

কুমিল্লায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে ১৮ আগস্ট থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযান শুরুর এক মাস আগে থেকেই এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার থাকায় জেলার শীর্ষ মাদক কারবারি ও গডফাদাররা আত্মগোপনের সুযোগ পায়। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকার সহস্রাধিক মাদক কারবারি জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ফলে পুলিশের তালিকাভুক্ত এসব মাদক কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে দুই শতাধিক খুচরা মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। হাতেনাতে মাদকসহ ধরা পড়াদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আর সেবনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে ২০-৩০টি করে মামলা রয়েছে এবং যারা ভারত থেকে মাদক এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে ডিবির কয়েকটি দল কাজ করছে। গডফাদারদের অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। আবার কেউ কেউ জেলার বাইরে আত্মগোপনে রয়েছে।
এ সব মাদক ব্যবসায়ী কোনো ধরনের ডিভাইস ব্যবহার না করায় প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের আবুল বাশার বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের কেউ এখনো ধরা পড়েনি। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছে। সদর দক্ষিণের দলকিয়া এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান আহমেদ বলেন, এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের তেমন কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়েনি।

সূত্র জানায়,৬ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়েনের ৯নম্বর ওয়াডের সপ্না বেগম পিতা- বাবুল মিয়া, মোসলেম পিতা আব্দুল জলিল, সুমন পিতা বাবুল মিঞা,আদর্শ সদর উপজেলার জঙ্গলপুরের ইমরান হোসেন, রনি, নুরু মিয়া, শুভপুরের পেয়ার আহমেদ, জামবাড়ীর রাকিব, শাসনগাছার বেবি, ধর্মপুরের রানু বেগম, হান্নান মিয়াসহ অর্ধ শতাধিক কারবারি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সোনা মিয়া, হেলাল, মুখলেছ, রিপন, আলী আকবর, বিল্লাল হোসেন, সামির উদ্দিন, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর মিয়া, রফিকুল ইসলাম,
জাহাঙ্গীর আলম, মামুন মিয়া, বাহাদুর, আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকেই রয়েছেন এ তালিকায়।

বুড়িচং উপজেলার হুমায়ুন মেম্বার, মহসিন, রবিউল ইসলাম রবি, বিল্লাল হোসেন, কাজল খান, ফিরোজ, মো. জসিম উদ্দিন ওরফে মামা জসিম, কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল, মোস্তফা, এসহাক ও হৃদয়সহ অনেকে এখনো গ্রেফতার হয়নি।

সদর দক্ষিণে নাজমুল হাসান, শামীম, শাকিল, রুবেল, ফারুক, সুমন, নুরু, জুলহাস, সাইফুল, আলমগীর হোসেন, শাহীনসহ দুই শতাধিক মাদক কারবারি প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে সূত্রের দাবি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবুল কাশেম, ছোট মোতালেব, বিটু, সুমন, সৈকত, বেলাল, বাবুল, পেয়ার আহমেদ, কামাল ভূঁইয়া, খলিলুর রহমান, মিজান, ভুটু ও হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সূত্র জানায়, মাদকের সরবরাহ চেইন ভাঙতে ছোট বিক্রেতাদের ওপর জোর দেওয়া হলেও মূল গডফাদারদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বহনকারীদের গ্রেফতার করে নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় না আনলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকবিরোধী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি কাউসার আলম সোহেল বলেন, চলমান সাঁড়াশি অভিযানে শীর্ষ গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

কুমিল্লা জেলা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত দুই শতাধিকের বেশি ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী গ্রেফতার হয়েছে। গডফাদার ও শীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে।