ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি কক্ষে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার ১২জুন দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হানিফ ও ভুক্তভোগী—উভয়ের বাড়ি চরফ্যাশন পৌর এলাকায়। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার দিন হানিফ তাকে মুঠোফোনে অফিসের একটি কক্ষ পরিষ্কার করার কথা বলে ডেকে নেন। তিনি কক্ষে প্রবেশ করলে অভিযুক্ত ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগীর জোরালো প্রতিরোধে তিনি ব্যর্থ হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দরজা খুলে দেন। পরে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখতে পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, “আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশেই আমাদের বাসা ছিল। সে কারণে মাঝে-মধ্যে লাকড়ি-পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে অফিসের কক্ষ ঝাড়ু দিতাম। সেই সূত্রে হানিফের সঙ্গে পরিচয় হয়। ঘটনার দিন সে আমাকে ফোন করে কক্ষ পরিষ্কার করতে বলে। আমি সেখানে গেলে দরজা আটকে দিয়ে আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। আমি বাধা দিলে সে সফল হতে পারেনি। আমরা গরিব মানুষ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাই না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে এবং তার পরিবার বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হানিফের কর্মস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদকের প্রতি অনুরোধ জানান।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এমরান তরফদার বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় চরফ্যাশন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।