তৌফিকুর রহমান, তাহের বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জে শাল্লা উপজেলার ১ নং আটগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাজারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাজারকান্দি গ্রামের সুমেশ সমাজপতি ও ঝন্টু সরকার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভবনটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা সারাক্ষণ চরম আতঙ্কে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই চিন্তায় আমাদের বুক কাঁপে।” স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দারাও একই শঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী চৌধুরী তাঁর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “ভবনের এই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে স্কুলে আসতেই চায় না। অনেক সময় আমাদের শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে স্কুলে নিয়ে আসেন।”
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং সমস্যা সমাধানের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে এই ভবনের ব্যাপারে জোর তদ্বির ও চরম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
যোগাযোগ করা হলে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। মাননীয় এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে আমরা একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য চূড়ান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি সুব্যবস্থা হয়ে যাবে।”
হাওর অঞ্চলের এই প্রত্যন্ত এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয় ভবনটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় স চেতন মহল।