নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইন হওয়া নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘন্টা পরে অবশেষে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
সোমবার ৮ জুন গভীর রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের সরিয়ে নেয়ার পর আবারো সীমান্তের লাইট চালু করে বিএসএফ। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিএসএফের সদস্যরা রাতে বিজিবিকে জানায়, তারা পুশইন হওয়া ওই ১০ জনকে ফেরত নিয়ে যেতে চায়। পরে বিজিবি সম্মতি দেয়। একইসঙ্গে দ্রুত তাদের ফেরত নিতে চাপ প্রয়োগ করে বিএসএফকে। পরে তাদের পাশের একটি ক্যাম্পে গাড়িতে করে নেয়া হয়। তবে বিজিবি কখনোই পুশইন মেনে নেবে না স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিএসএফকে।’
বড়বাড়ি প্রধানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘রবিবার রাতে আমরা সীমান্ত এলাকায় ছিলাম। পরে রাত দুইটার দিকে আমরা দেখি সীমান্তের লাইট বন্ধ করে তাদের নিতে আসে বিএসএফ। পরে তাদের গেটের কাছে নিয়ে আবারো লাইট চালু করে দেয়। আবারও তারা তাদের ফিরিয়ে আনে জিরো লাইনে। কিছু সময় নাটকীয়তার পরে আবারো তাদের ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে গাড়িতে করে তাদের পাশের একটি ক্যাম্পে নেয়া হয়।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, কোনোভাবেই সীমান্তে পুশইন মেনে নেবেন না স্থানীয়রা। তারা চান সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকুক। কৃষি কাজ সহ দৈনন্দিন জীবন সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিক থাকুক।
এর আগে, শুক্রবার ভোর ৫টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে বিওপি, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে তিনটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।