শিরোনাম :
বড় অঙ্কের অর্থ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পুলিশের সহায়তা নিন ওসি রতন শেখ  স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিও বাস্তবায়ন ও অনুদান ছাড়ের দাবিতে মানববন্ধন তাহিরপুরের বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা-শুকানোর কাজ পরিদর্শনে ইউএনও মানিক  নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নবান্নে গান অফ স্যালুট দিয়ে সম্বর্ধনা  কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের পুনরায় সভাপতি রাসেল, সম্পাদক সৌরভ, সাংগঠনিক রাফি এশিয়া পোস্টের উদ্বোধনে কুমিল্লায় কেক কাটা ও আলোচনা সভা ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্র্যাকের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ আমতলীতে ভূয়া আইডির ছড়াছড়ি, মিথ্যা গুজব ও তথ্য ছড়িয়ে হয়রানি! রাজিবপুরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশার মর্যাদা রক্ষায় প্রতিবাদী মানববন্ধন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

তেঁতুলিয়ায় ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষে চমকে দেয়া সাফল্য

Reporter Name
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া তিরনই হাট ইউনিয়নে ওষুধি ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধান চাষে করে কৃষি উদ্যোক্তা মাসুদ রানা, (২৪) মোশারফ হোসেন (৩০) দুই সহদোর সফল হয়েছেন। তিনি শখের বসে ৩০ শতাংশ জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন, ফলনও ভালো হয়েছে। মাসুদ রানার ধান ক্ষেতে ব্ল্যাক রাইস এখন হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। তিরনই হাট ইউপির বাবুয়ানি জোত মুরশিদ আলীর ছেলে।

পৈত্রিক ৩০ শতাংশ জমিতে নিজ উদ্যোগে ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধান চাষ করেছেন । ধানগুলো অনেকটা পরিপক্ক হয়েছে- ক’দিন পরই কেটে ঘরে তুলবেন। তার ধান ক্ষেত দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। অনেক কৃষক ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ভিয়েতনামি ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধানের বীজ অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার করে নিয়ে আসেন তিনি।

জানা যায়, কালো চাল (বেগুনি চাল হিসাবেও পরিচিত) হচ্ছে- ধানের এক জাতীয় বিশেষ ধরনের প্রজাতি। এ ধরনের ধান কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত নয়। এর বিভিন্ন প্রকরণের মধ্যে কয়েকটি বেশ আঠালো বা চটচটে চাল উৎপাদন হয়ে থাকে।

কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস অনেকের কাছে বেশ অপরিচিত হলেও এর ইতিহাস আসলে প্রাচীন। হাজার বছর ধরে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চালের চাষ হচ্ছে। চিন দেশের ইতিহাসে এই চাল নিয়ে অদ্ভুত এক নিয়ম লোকমুখে শোনা যায়। আগে চিনে শুধু রাজ পরিবারের সদস্যরাই এই চাল খেতে পারতেন। সাধারণ মানুষের জন্য এই কালো চাল নিষিদ্ধ ছিল। অনেকের ধারণা, পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে এই চালকে রাজকীয় খাবার হিসেবে সংরক্ষণ করাই ছিল এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য। দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও কয়েক ধরনের কালো ও বাদামী ধানের চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরা এতকাল এর গুরুত্ব অনুধাবন করে চাষ করছেন। এধরণের উচ্চ আঁশ যুক্ত চালের ভাত সাধারণত বাংলার কৃষকরা খেতেন। এই ভাত খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে শুধু সকালে আর বিকালে খেলেই তাদের চলে যেত।

ব্ল্যাক রাইসের পুষ্টিগুণ সাধারণ চালের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি। এই চাল কালো হওয়ার মূল কারণ অ্যান্থোসায়ানিন নামক এক প্রকার উপাদান। এটি মূলত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে- যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অন্যান্য চালের তুলনায় এর আমিষের পরিমান বেশি। এতে চিনির পরিমান কম এবং আঁশের পরিমান বেশি। এছাড়া ভিটামিন ই যুক্ত থাকায় এ চালের বিশেষ রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা রয়েছে। এতে ফাইবার অনেক বেশি থাকে। তাই এ চালের ভাত শরীরে খুব ধীর গতিতে গ্লুকোজ তৈরি করে। ফলে শরীরে শর্ককরার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এ চালকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব কার্যকর বলা হয়। এ ধান বছরে শীত ও গ্রীস্ম কালে একই জমিতে বছরে দুইবার চাষ করা যায়।

পৃথিবীতে ৭-৮ জাতের ব্ল্যাক রাইস ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে- ইন্দোনেশীয় কালো চাল, ভিয়েতনামি চাল, ফিলিপাইনের বালাতিনা চাল, চায়না ব্ল্যাক রাইস এবং থাই জুঁই (জেসমিন) কালো চাল। মণিপুরে এ জাতীয় কালো চাল চক-হাও নামে পরিচিত।

তেঁতুলিয়া তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাসুম রানা জানান, ইউটিউবে প্রথম এ ধানের চাষাবাদের বিষয়ে দেখে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে অনলাইনে থেকে ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধানের বীজ সংগ্রহ করেন। ৫০০ টাকা কেজি দরে ভিয়েতনামি ব্ল্যাক রাইসের পাঁচ কেজি ধান বীজ সংগ্রহ করেন। ৩০ শতাংশ জমিতে এ ধানের চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা। এ ধান তিন মাসের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। তিনি আশা করছেন ৩০ শতাংশ জমিতে ৩০-৪০ মণ ধান পাবেন।

তিনি জানান শখের বসে এই ধান প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন। প্রথমবার চাষ করে সাফলতা পেয়েছেন। জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি আশা করছেন এই ধান চাষ করে লাভবান হবেন। সামনের বছর আরও বেশি করে ‘ব্ল্যাক রাইস’ ধান চাষ করবেন। এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এই ধান চাষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই এই ধানের বীজের জন্য অগ্রিম অর্ডার করেছেন। তাই তিনি এ ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে অল্প দামে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

স্থানীয় কৃষক ইউপির সদস্য রমজান আলী জানান, ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের নাম আগে শুনেছেন কিন্ত এবারই প্রথম দেখছেন। ধানগুলো পরিপক্ক হয়েছে। সাধারণ ধানের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ ফলন ভাল হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে দেখতে আসছেন ও তরুণ উদ্যোক্তা কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। কম খরচে বেশি ফলন হওয়ায় মাসুদ, মোশারফ কাছ থেকে এই ধানের বীজ সংগ্রহ করে আগামিতে তারাও ব্ল্যাক রাইস জাতের ধান চাষ করবেন।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শাবরিনা আফরিন জানান, এক কৃষক কৃষি উদ্যোক্তা এই প্রথম ব্ল্যাক রাইস জাতের ধান চাষ করেছেন তিনি শুনেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category