স্টাফ রিপোর্টার : গত ৮ মে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সেই মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (মেট্রোরেল)-এর কর্মীকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ওই ব্যাক্তির নাম নুরুজ্জামান। ভিডিওতে তাকে মিছিলের সামনের সারিতে থেকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভেরিফাইড পেজে আপলোড করা ৪২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নরসিংদী জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শামীম নেওয়াজের ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের এই মিছিলে নুরুজ্জামানকে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাওয়ার পরপরই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
অভিযুক্তের পরিচয় হলো, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার শিবরামপুর এলাকার কায়েম এর ছেলে নুরুজ্জামান।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসার পর তারা তাৎক্ষণিক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-এর পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান,
“ভিডিওটি আমাদের হাতে এসেছে। সরকারি আইন ও চাকুরীর বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ দিকে খিলক্ষেত থানা পুলিশ নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৌরভ সংবাদ মাধ্যমকে জানান “আমরা অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছি। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকেও আমাদের অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর এমন প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বর্তমানে নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।