আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : ছাত্র জনতার আন্দোলনে আ.লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আমতলীতে বিভিন্ন নামে ফেসবুকে ভূয়া আইডির ছড়াছড়ি।
গত দুই বছরে উপজেলা কেন্দ্রিক ‘আমতলী সংবাদসংস্থা’ মুখোষ উম্মোচন বটবাহিনী’সহ শতাধিক ভূয়া আইডি তথ্য পাওয়া গেছে। এ সব ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে বিএনপি নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ও তথ্য ছড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন ছদ্মনামে আইডি ব্যবহার করে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভূয়া আইডি থেকে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে।
ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, ৫ আগস্ট আ. লীগ সরকারের পতনের পর কিছু আ. লীগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে থেকে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এছাড়া স্থানীয় বিএনপির একাংশ এ অপপ্রচারের সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নয়, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। এ সব আইডির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। আবার অনেকেই টার্গেটকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখে ম্যাসেঞ্জারে বিকাশ নাম্বার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সব ভূয়া আইডির মাধ্যমে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো:জালাল উদ্দিন ফকির,পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ কবির ফকির, হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো:লিমন মৃধা, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জামাল খান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মো: মঈনুদ্দিন মামুন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আ: রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভূয়া আইডি থেকে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও এ সব ভূয়া আইডির অপপ্রচার থেকে বাদ যায়নি আমতলীতে প্রথম সারির গণমাধ্যম কর্মীরাও।
এদের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক মো:মনিরুল ইসলাম, আমতলী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দেশ রুপান্তর সাংবাদিক মো:সজিব মিয়া সহ অনেকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মানহানির চেষ্টা করছে।
তবে এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ কবির ফকির আমতলী থানায় একাধিক ভূয়া আইডির বিরুদ্ধে জিডি করেছেন, যার তদন্ত চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মো:মনিরুল ইসলাম জানান, ভূয়া আইডির বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ভূয়া আইডি থেকে অপপ্রচারের শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, ভূয়া আইডি ব্যবহারকারীরা মূলত বিএনপির নেতাকর্মী এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব এবং অপমানজনক মন্তব্য পোস্ট করছে। কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত আচরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভূক্তভোগী সাংবাদিকরা মনে করেন, সাংবাদিকদের হয়রানি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে তারা প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরতে না পারে। এই ধরণের অপপ্রচারের ফলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সাভারের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
প্রশাসনের দায়িত্ব হবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা এবং এই ধরনের ভূয়া আইডির ব্যবহার বন্ধ করা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে যে, ফেসবুকেসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বন্ধ করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ভুয়া আইডিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবু শাহাদাৎ মো: হাসনাইন পারভেজ বলেন, ফেইক আইডি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।