মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি বনাম মুন্সিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক সোসাইটির প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রতিদিনের সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা, ক্যামেরা আর কলমের লড়াই ছাপিয়ে এবার খেলার মাঠে মেতে উঠলেন।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মুন্সিগঞ্জ ও তেঁতুলিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ সাংবাদিক সোসাইটি ও তেঁতুলিয়া সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে তেঁতুলিয়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বর্ণাঢ্য ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজিত এই খেলায় সাজেদার রহমান রাজুর পরিচালনায় দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন। দক্ষ খেলোয়াড়ের মতো নিখুঁত ছন্দ না থাকলেও, সাংবাদিকদের এলোমেলো দৌড়ঝাঁপ আর হাসি-আনন্দে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক অনন্য আমেজ। ফুটবল যেন এক মুহূর্তের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল পেশাগত সব চাপ ও ক্লান্তি।
খেলার মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করেন দুই দলের হয়ে অংশ নেওয়া বিশেষ অতিথি খেলোয়াড়রা। ফুটবল পায়ে মাঠ মাতান তেঁতুলিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাহিন, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া সাংবাদিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মু. আবু সাঈদ সোহান। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ দর্শকদের বাড়তি আনন্দ জুগিয়েছে।
পুরো খেলাটি দর্শক সারিতে প্রধান অতিথির আসনে বসে উপভোগ করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরু। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ, আর সেই আনন্দে শামিল হন আমন্ত্রিত অতিথি থেকে শুরু করে খেলা দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরাও।
এই প্রীতি ম্যাচ শুধু খেলায় সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে আন্তঃজেলার সাংবাদিকদের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্কের এক মজবুত ভিত। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উভয় দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ উপঢৌকন বিনিময় করা হয় এবং মুন্সিগঞ্জ সাংবাদিক সোসাইটিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ সময় তেঁতুলিয়া সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির এমএ বাসেতের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সোহরাব আলী, ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিকসহ তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাব, মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকরা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততায় ডুবে থাকা সাংবাদিকদের জন্য এই আয়োজন ছিল একটি রঙিন ও স্মরণীয় বিকেল। এ ধরনের আয়োজন পেশাদারিত্বের একঘেয়েমি দূর করে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে। প্রতি বছর এমন আনন্দদায়ক উদ্যোগ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অতিথিরা।