পঞ্চগড় প্রতিনিধি : চিকিৎসা নিতে এসে জরুরি বিভাগে সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি ১০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ওয়ার্ড বয়কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জুয়েল খন্দকার নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ২৭ মে মধ্যরাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। অভিযুক্ত জুয়েল তার দাদী আনোয়ারা বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জুয়েল খন্দকার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে আনোয়ারা বেগম (৬২) নামে এক নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু নোমান মোঃ ইফতেখারুল তৌহিদ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিকেলে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় ভর্তি ফি নিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রশিদুল ইসলামের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেখানে উপস্থিত হয়ে জুয়েল খন্দকার ওয়ার্ড বয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অভিযুক্ত পক্ষের কয়েকজন এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ওয়ার্ড বয় রশিদুল ইসলাম জানান, আনোয়ারা বেগম নামে এক রোগীকে হাসপাতালে আনার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেন। পরে সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি বাবদ ১০ টাকা চাইলে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তারা ৫০০ টাকার একটি নোট দিলেও তার কাছে ভাঙতি টাকা ছিল না। এ সময় জুয়েল খন্দকার নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গালাগালি করেন এবং তাকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত জুয়েল খন্দকার বলেন, “পারস্পরিক ভুল বুঝাবুঝি ছিল। ঘটনা শুনে ছাত্রদলের উপজেলা আহ্বায়ক সুমন ভাই রাতেই হাসপাতালে এসে বিষয়টি মিটমাট করে দেন।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবু নোমান মোঃ ইফতেখারুল তৌহিদ বলেন, “গতকাল আনোয়ারা বেগম রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এই সময় আগে থেকে জরুরি বিভাগে আরও তিনজন রোগী থাকলেও তাকেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগীর আত্মীয়রা আগ্রহ না দেখায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর জরুরি বিভাগের বাইরে হঠাৎ করেই চিল্লাপাল্লা শুনে বের হই। পরে বিষয়টি জানার পর উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”
ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও তা এখনো দেখা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবু নোমান মোঃ ইফতেখারুল তৌহিদ বলেন, “ইউএইচএফপিও স্যারের রুমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার ব্যবস্থা থাকলেও ঈদের ছুটির কারণে অফিস সহকারীর কাছে রুমের চাবি থাকায় এই মুহূর্তে ফুটেজ দেখা সম্ভব হচ্ছে না।”
দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. আফরোজা রিনা বলেন, “সকালে ঘটনাটি ডাক্তার নোমান আমাকে জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটমাট হওয়ার কথা বলায় আমি আর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেইনি।”
অফিস রুমের চাবি অফিস সহকারী সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি যেহেতু অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি, তাই সেখানকার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডাক্তার নোমানকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করে দিয়েছি। তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, “এই ঘটনায় রাতেই দুই পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা ভুক্তভোগী ওয়ার্ড বয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যে জুয়েলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।”