তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ হয়ে ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে পায়েল মিয়া( ১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার ২৭ মেউপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামের আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমানের গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত পায়েল মিয়া ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত এক নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত নারী তাহেরা বেগম (৩২) ওই গ্রামের আবু সালেকের স্ত্রী।
জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুইদিন আগে থেকে আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমানেবর পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার বেলা দুইটায় সেই উত্তেজনা দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে সাইদুর রহমান গ্রুপের পায়েল মিয়া (১৮) নামের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়াও একই গ্রুপের আবু সালেকের স্ত্রী তাহেরা বেগম (৩২) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় আরো ৩-৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাইদুর রহমান গ্রুপের আমির মিয়া বলেন, দু’দিন ধরেই আওয়াল নূর পক্ষের লোকজন মারামারি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছিলাম। আজকে হঠাৎ করে আমাদের উপর আওয়াল নূরের লোকজন আক্রমণ করে।
তবে আওয়াল নূরের গ্রুপের দাবি তাদেরকে ফাঁসাতে সাইদুর রহমান গ্রুপ লোকজন তারা নিজেরাই নিজেদের লোক মেরে ফেলেছে। আওয়াল নূর বলেন, আমাদের বাড়ি নদীর ওইপাড়ে। আমরা মারামারির বিষয়ে কিছুই জানি না। এখন হঠাৎ শুনতেছি আমাদের বিপক্ষের গ্রুপের লোক নাকি মারা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনা শোনার পর পরই আমি সেখানে গিয়েছি। দুই বছর ধরে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে বলেন তিনি।
৪নং শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার জানান, গত দু’দিন ধরেই গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করায় আমি ফোনে তাদেরকে সাবধান হওয়ার জন্য বলে দিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি। এখন শুনতেছি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সৈকত আলী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। সংঘর্ষের ঘটনায় একজন মারা গেছেন। আরও ৪/৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।