চিকিৎসার অর্থ জোগাতে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ চান অসুস্থ মোসারফহোসেন, ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত মো. মোসারফ হোসেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝে পেতে চান । তবে জমির ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে আপন ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে জমি জোরপূর্বক দলিল করে নেয়া, সম্পত্তির কাগজপত্র আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার মত অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এ ঘটনায় এক সময়ের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান সেখ হাসিনার ভাতিজা ফরিদপুর ৪ এর সাংসদ মজিবুর রহমান লিক্সন চৌধুরি একান্ত স্নেহধন্য মিঠু জমাদার এর হুমকিতে স্থানীয় জন প্রতিনিধি চেয়ারম্যান এবং থানার ওসি কাছে বিচার পাওয়ার আশাংকা থাকায় তিনি এসপি ফরিদপুর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের...
নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত মো. মোসারফ হোসেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝে পেতে চান । তবে জমির ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে আপন ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে জমি জোরপূর্বক দলিল করে নেয়া, সম্পত্তির কাগজপত্র আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার মত অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় এক সময়ের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান সেখ হাসিনার ভাতিজা ফরিদপুর ৪ এর সাংসদ মজিবুর রহমান লিক্সন চৌধুরি একান্ত স্নেহধন্য মিঠু জমাদার এর হুমকিতে স্থানীয় জন প্রতিনিধি চেয়ারম্যান এবং থানার ওসি কাছে বিচার পাওয়ার আশাংকা থাকায় তিনি এসপি ফরিদপুর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে মোসারফ হোসেন উল্লেখ করেন, তাঁর বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলাধিন চর নাসির পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ জমাদারকান্দি এলাকায়। তিনি ২০১৪ সাল থেকে গুরুতর অসুস্থ। ইতোমধ্যে গলা ও কোমরে জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন। এ ছাড়া ব্রেন স্ট্রোক, কানের সংক্রমণ, লিভারের সমস্যা ও মারাত্মক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত তাঁর কোমরে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। বর্তমানে নিয়মিত ইনসুলিন ও ওষুধ গ্রহণ করতে হচ্ছে তাঁকে।
মোসারফের দাবি, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় তাঁর প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার অধিকাংশই আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। এ অবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ এবং তার স্ত্রীকে কিছু করে দিতে চান তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি তাঁর ৫ ভাই-বোন ও এক ভাতিজা এবং এক ভাগিনার বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করা এবং সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁর চার ভাই মিলে ২১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দলিল করে নেন যার দলিল নম্বর ২৩৬৭। ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়া আরও ৩১ শতাংশ জমি তিন ভাই তাঁর কাছ থেকে দলিল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এসব জমির বিপরীতে তিনি ন্যায্য মূল্য পাননি বলেও দাবি তাঁর।
মোসারফ আরও অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তির বড় একটি অংশের আয় থেকেও তাঁকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাঁর বাবা ১৯৯৬ সালে মৃত্যু বরন করেন। বাবার মৃতের পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৯৩ বিঘা জমির বার্ষিক আয় থেকে তিনি কোনো অর্থ পাননি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, জমি জমা তার বড় ভাই আব্দুর রব জমাদার তার খিয়াল খুশি মত কিছু জিমি ভাগ করে দিয়েছে। নিজেদের ইচ্ছামতো ভাগ করে তাঁকে এমন কিছু নিচু ও অনাবাদি জমি দেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে চাষাবাদ করা কঠিন। অন্যদিকে উর্বর জমি বিক্রি করে তাঁকে সামান্য অর্থ দেওয়া হয়েছে, যা চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট নয় বলে দাবী করছেন তিনি।
অভিযোগ পত্রে বড় ভাইয়ের আর্থিক সম্পদ ও অতীত কর্মজীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মোসারফ। তাঁর দাবি, বড় ভাই একসময় সোনালী ব্যাংকে ক্লার্ক পদে চাকরি করতেন, একজন সামান্য ব্যাংক কর্মচারী হয়ে কিভাবে নিজ নামে ২২ বিগা জমি সদরপুর সরকারী ডিগ্রি কলেজের উত্তর পাধে ২০ শতাংশ জমির উপর বিলাশ বহুল দিতল ভবন যার মুল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা, উল্লেখ্য যে চাকুরী অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা হয়েছিল। ব্যাংকের একজন কর্মচারী হিসেবে চাকরি করার পরও কীভাবে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদের মালিক হয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মোসারফের আরও অভিযোগ, নিজের জমির অংশ বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বললেই তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতা ও চলাফেরায় অক্ষমতার কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর দাবি, জমির দলিল, পর্চাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও আটকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, তিনি ততকালিন সাংসদ আকমল ইবনে ইউসুফ, এর স্নেহাধন্য ছিলেন। তাই তার সুপারিশে তিনি নিজের সামর্থ্য ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভাই-বোনদের পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও চাকুরির ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিলেন অথচ আজ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনে নিজের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ চাইতে গিয়ে তাঁদের কাছে (আদরের ভাই)থেকেই বাঁধার সম্মুখীন হয়ে শত্রু বনে গেছেন বলে অভিযোগ তার।
এ অবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন, জোরপূর্বক দলিলের বিষয়টি তদন্ত, সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের নিকট সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ তার বড় ভাই রব জমাদ্দার জাহিলি যুগের সাশকদের চরিত্রের একজন মানুষ। তিনি বলেন সে এতোটাই অমানবিক যে এলাকার বহু মানুষের জমি দখল করে নিয়েছে।ক্ষমার অযগ্যে এমন এক কাজ সে করেছে ২০১৪ সালে আমার ফুফু, ফুফাত ভাইদের ধ্বংশ করার জন্য এক মর্মান্তিকক নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছিল যে ঘটনা গ্রামবাসী সকলেই জানে তার নিজস্ব একটা টিম আছে সেই টিম দিয়ে সে এই ঘটনা গুলো ঘটায় কিন্তু দুঃখের বিষয় তার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।অবশেষে সে আমার সাথে এমনটা করছে। আমি নিঃসন্তান স্ট্রোকের পর আমার কান, কোমর,চোখ সবই প্রায় ধ্বংশের শেষ পর্যায়। তার পরও বুকভরা আশা নিয়ে সুষ্ঠু শরীরের আল্লাহর এবাদত করে আমার জীবনসঙ্গীর জন্য কিছু করে যাওয়ার স্বপ্ন লালন করি যে তাকে একটা সন্তানও দিতে পারলাম না , কিছু সম্পদও যদি দিয়ে যেতে না পারি কাল আমার বিদায়ে তাকেও তারা বঞ্চিত করবে আমার প্রাপ্য সম্পতি থেকে।তিনি আরও বলেন আমি দুদক চেয়ারম্যান , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাক রেঞ্জ ডিআইজি, ফরিদপুর পুলিশ সুপার বরাবর নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আমার পৈত্রিক সম্পত্তির প্রাপ্য হিস্সা বুঝে পাওয়ার আবেদন করেছি। প্রথমে আমি এলাকাবাসী এবং থানায় আমার নিরাপত্তা নিশ্চত করতে যেতে চাইলে বিভিন্ন হুমকির সম্মুখিন হই। পরবর্তীতে আমি আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি। , জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের প্রাপ্য সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বাঁচতে চান তিনি। কারও সম্পদ দখল নয়, বরং নিজের অধিকার ফিরে পেয়ে চিকিৎসা করিয়ে বাকি জীবন সম্মানের সঙ্গে কাটানোই তাঁর প্রত্যাশা বলে দাবি করছেন।