ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে দেবহাটায় আনন্দ মিছিল সাতক্ষীরা মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’-এর আলোচনা সভা শিবগঞ্জে ১১ মাসের শিশু অপহৃত, উদ্ধার ও গ্রেফতার ২ “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গোপালগঞ্জ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ”  গোবিপ্রবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে নবীন বরণ : দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব বিকাশের আহ্বান ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান গোপালগঞ্জ বিল থেকে জাল উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম পুলিশকে মারপিট  সড়কে বাস ও প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, নিহত ২ রাজিবপুরে স্ববল প্রকল্পের ৪ হাজার ২০০টি গাছের চারা বিতরণ বাস-কনটেইনারের সংঘর্ষে পথচারীর মৃত্যু

হাওরপাড়ের আর্তনাদ: সোনালি ধান এখন কৃষকের চোখের জল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:০৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ঘামঝরানো পরিশ্রম আর বুকভরা আশা সবই যেন নিমিষেই ধুয়ে গেল গত কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে। সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরগুলোতে এখন উৎসবের বদলে চলছে শোকের মাতম। যে সোনালি ধান ঘরে তুলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা ছিল, সেই ধান এখন পানির নিচে পচছে। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
মমিন আলীসহ হাজারো কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ
সরেজমিনে আটগাঁও তথা অষ্টগ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। কৃষক মমিন আলীর ৮ একর জমির ধান এখন জলমগ্ন। ঋণ আর ধারের বোঝা মাথায় নিয়ে দিনরাত এক করে ফসল ফলিয়েছিলেন তিনি। আট সদস্যের বিশাল পরিবারের সারা বছরের আহার আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ—সবই ছিল এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।
বাকরুদ্ধ মমিন আলী ভেজা চোখে বলেন,সব তো শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব? পাওনাদাররা দরজায় আসবে, কিন্তু তাদের দেওয়ার মতো কিছুই আমার কাছে অবশিষ্ট নেই। এই হাহাকার আজ দিরাই-শাল্লার প্রতিটি হাওরপাড়ের মানুষের। এক নজরে বর্তমান সংকটখাদ্য অনিশ্চয়তা ঘরে বছরের খোরাকি চালটুকু তোলার সুযোগ পাননি অধিকাংশ কৃষক। ফলে সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঋণের মরণফাঁদ ব্যাংক ঋণ এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির টাকা কীভাবে শোধ হবে, তা নিয়ে কৃষকরা দিশেহারা।
মানসিক বিপর্যয় দীর্ঘদিনের খাটুনি বৃথা যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল সামান্য ত্রাণ দিয়ে এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষিঋণ মওকুফ এবং আগামী মৌসুমের জন্য সার-বীজসহ বিশেষ সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।
দিরাই-শাল্লার এই মানবিক বিপর্যয় কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার গল্প। প্রান্তিক এই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো হাওরপাড়ের মানুষগুলো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সামনে মানুষ আজ অসহায়, কিন্তু সহমর্মিতা ও সঠিক সহযোগিতা পারে তাদের বেঁচে থাকার পথ দেখাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :