‘তৌফিক’
ভুলি নাই ১৭ সাল” আত্মমর্যাদা বনাম মেরুদণ্ডহীনতার এক নির্মম বাস্তবতা*
‘১৭ সাল’ আমরা ভুলে যাইনি। সেইসব দিনরাত্রির কথা আজও মনে জমা আছে, যখন অমানুষিক নির্যাতন আর তীব্র অবমাননার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হয়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতি আমাদের প্রজন্মের বিবেকবান মানুষেরা কখনোই ভুলতে পারে না।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের চারপাশের কিছু মানুষ তা সহজেই ভুলে গেছে। কিছু সংকীর্ণমনা, নিম্ন মানসিকতার মানুষ নিজের সামান্য ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য, নামমাত্র টাকার বিনিময়ে আজ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তারা একবারও ভাবছে না যে তাদের একটা নিজস্ব ঐতিহ্য, উঁচু আদর্শ আর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন গোষ্ঠী ছিল।
নিজের ওপর হওয়া চরম অপমানের কথা ভুলে গিয়ে আজ যারা শত্রুর সাথে হাত মেলাচ্ছে, তাদের মূলমন্ত্রটা আসলে কী? শত্রুর ক্ষতি করা, নাকি সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া? এদের মতো মেরুদণ্ডহীনদের দিকে সমাজের তীব্র ধিক্কার (থুথু) দেওয়া উচিত।
সবচেয়ে বড় কষ্ট আর বিস্ময়ের জায়গা হলো যখন দেখি—একটি তথাকথিত শিক্ষিত গোষ্ঠী যখন নিজের বিবেক বিসর্জন দিয়ে অন্যের পেছনে ঘুরতে শুরু করে, তখন তার অর্থ কী দাঁড়ায়? হঠাৎ করে এই যে জাত আর অজাতের মেলবন্ধন, আদর্শহীনদের সাথে এই যে আপস, এর পেছনের আসল রহস্যটা কী?
শিক্ষা যদি মানুষকে আত্মমর্যাদা আর সঠিক-ভুল চেনার ক্ষমতা না দেয়, তবে সেই শিক্ষার চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কিছু হতে পারে না। স্বার্থের জন্য অতীত ভুলে শত্রুর চাটুকারিতা করা মানুষগুলো সাময়িক সুবিধা পেলেও, ইতিহাসের পাতায় তারা চিরকাল বেইমান আর মেরুদণ্ডহীন হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।