বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শিবির ও ছাত্রলীগের অপপ্রচার পঞ্চগড়ে লাইসেন্স বিহীন প্যাথলজিতে লিভার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণা পঞ্চগড়ে হোসনেবাদ মাদ্রাসায় ১৩ জন শিক্ষকের ৭ পরীক্ষার্থী, পাশ করেছে ১ জন স্বরূপনগরে সরকারি রাস্তা দখলমুক্তের দাবিতে মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা ও মিষ্টিমুখ মধ্যনগরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডে ৩ শিক্ষাবিদকে মনোনীত করলেন চ্যান্সেলর দুমকিতে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা সভা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে কুসিক, প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন প্রশাসক টিপু দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

পঞ্চগড়ে অটো রাইস মিলের দাপটে চাতালকল হুমকির মুখে পড়েছে

Reporter Name
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ

খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে অটো রাইস মিলের দাপটে এবং ধানের উচ্চ মূল্যের কারণে অনেক ছোট চালকল বা চাতাল কল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিত্যক্ত চাতাল কলগুলো এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। চাতালকল বন্ধ হওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসকিং মিল চাতাল সমৃদ্ধ এলাকায় অটো রাইস মিলের আধিপত্যের ফলে প্রায় ২ ০ হাজার চাতাল শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

চালকল মালিকরা বলছেন, অটো রাইস মিলে ধানের চাহিদা বেশি হওয়ায় তারা বাজারের বেশির ভাগ ধান কিনে নেয়, ফলে ছোট চাতাল কলগুলো টিকে থাকতে পারছে না।

এক সময় ধান সংগ্রহের পর চাতালে শুকিয়ে হতো চাল প্রক্রিয়ার কাজ। এগুলোকে বলা হতো হাসকিং মিল বা চাতাল। শুধু চাল-ই নয়, গম, ভুট্টা, সরিষাসহ বহু শস্য শুকানো হতো চাতালে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান ও চালের মূল্য এবং অটো রাইস মিলের কারণে লোকসানে পড়ে চাতালগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। তাই চাতাল ভেঙে কেউ কেউ গড়ে তুলছেন বাসা-বাড়ি, দোকানপাট। আবার কেউ কেউ গড়ে তুলছেন গরুসহ হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়ার খামার। এমন চিত্র পঞ্চগড় উপজেলাজুড়ে। চাতাল ব্যবসায় দুর্দিন চলায় মালিকরা ব্যবসা বদলাচ্ছেন।

চাতাল মালিকরা জানান, আশির দশকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাসকিং মিল-চাতাল তৈরি করে চালের ব্যবসা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে গড়ে ওঠে চালকল। এর মধ্যে অটোমেটিক রাইস মিলও রয়েছে। চাতালগুলোতে উৎপাদিত চাল এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এসব চাতালের মালিক ছিলেন। কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু আধুনিকতার উৎকর্ষে অটো রাইস মিলের দাপটে বাজারে টিকতে না পারার কারণে পুঁজি হারানোর আতঙ্কে সেই সুদিন এখন দুর্দিনে পরিণত হতে চলেছে। অনেকে এই ব্যবসায় অধিক পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করে হতাশ হয়ে এখন অন্য পেশার দিকে যাচ্ছেন।

কিছু ক্ষেত্রে, পরিত্যক্ত চালকলে সরকারি চাল বরাদ্দের নামে অনিয়মের ঘটনাও ঘটছে, যেমন পরিত্যক্ত কলে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের প্রচেষ্টা।

পঞ্চগড়ের মতো বড় মোকামগুলোতে ৫ শতাধিক রাইচ মিল থাকলেও চাতাল শ্রমিকরা বর্তমানে ভালো নেই।

পরিত্যক্ত চাতাল কলগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশকে বেকার করে দিয়েছে এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে এই শিল্পটি হুমকির মুখে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
Web Design By Khan IT Host