ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জাবিপ্রবিতে মানববন্ধন বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেফতার ১ পঞ্চগড়ে আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাইমুজ্জামান গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন শান্তিগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা চরফ্যাশনে ফের ৬ মাসের জন্য আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত অ্যাডভোকেট হিরনের দিরাইয়ে মাদক, অসামাজিক কার্যকলাপ ও কথিত পতিতালয় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন :   ৫ দফা দাবি পেশ পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দায়ী করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের চাকরির খতিয়ান বই পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকার ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : “জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন” এবং “যে মাদক অফার করে, সে কখনো বন্ধু হতে পারে না” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কৌতূহল, বন্ধুদের প্ররোচনা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং মাদকের সহজলভ্যতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মাদক গ্রহণ কখনো আধুনিকতা বা বন্ধুত্বের পরিচয় নয়। কেউ মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করলে কিংবা মাদক অফার করলে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে বিষয়টি অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত করে। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে এবং নানা সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। কোনো শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ নেওয়া হলে দ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন, সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ্র বর্মন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার খালেদুর রহমান।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দীন, গোলাম মোস্তফা, আমিনুল ইসলাম, আহমেদ নুর আলবাবসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজেদের পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকাসক্তির কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, মাদকের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মাদকমুক্ত, শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : “জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন” এবং “যে মাদক অফার করে, সে কখনো বন্ধু হতে পারে না” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কৌতূহল, বন্ধুদের প্ররোচনা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং মাদকের সহজলভ্যতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মাদক গ্রহণ কখনো আধুনিকতা বা বন্ধুত্বের পরিচয় নয়। কেউ মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করলে কিংবা মাদক অফার করলে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে বিষয়টি অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত করে। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে এবং নানা সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। কোনো শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ নেওয়া হলে দ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন, সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ্র বর্মন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার খালেদুর রহমান।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দীন, গোলাম মোস্তফা, আমিনুল ইসলাম, আহমেদ নুর আলবাবসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজেদের পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকাসক্তির কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, মাদকের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মাদকমুক্ত, শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।