সাতক্ষীরা শহরের দিবা-নৈশ কলেজ মোড় দখলমুক্ত
- আপডেট সময় : ১২:২৬:২৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সমস্ত বাধা-বিপত্তি গুঁড়িয়ে অবশেষে মুক্ত হলো সাতক্ষীরা শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দিবা-নৈশ কলেজ মোড়। অবসান ঘটলো দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র যানজট, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি এবং সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আতঙ্কের। অবশেষে ঘুম ভেঙেছে জেলা ও পৌর প্রশাসনের। ১০ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে পৌরসভার এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি সম্পূর্ণ অবমুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, এরপর ২১ এপ্রিল দুই দোকানে জিম্মি পুরো শহর, ২৮ এপ্রিল উচ্ছেদে বাধা, প্রশাসন নিশ্চুপ: সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি ডিসি-পৌর সিইও, উন্নয়ন কাজ পণ্ড এবং ৫ মে সরকারি রাস্তা সন্ত্রাসীদের হাতে; প্রশাসন নাকি নিরাপদ দূরত্বে! শীর্ষক ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় কীভাবে শান্ত স্টোর-এর মালিক হায়দার এবং মদিনা ইউনানী আয়ুর্ব্বেদ চিকিৎসালয়-এর মালিক কামরুল গং সরকারি রাস্তা দখল করে অঘোষিত এক দখল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। এমনকি রাস্তার উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতে সন্ত্রাসীদের দিয়ে মহড়া দেওয়ার মতো স্পর্ধাও দেখিয়েছিল এই চক্রটি।প্রশাসনের রহস্যজনক নিস্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৯ জুন সচেতন এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজের সম্মুখে এক সুবিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সেখান থেকে জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিসি) মোঃ আবুল হাসেম স্বাক্ষরিত স্মারক নং ০৫.৪৪.৮৭০০.০০০.০১২.১০.০০০২.২৫.৬২৬-এর এক অফিস আদেশে সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও উচ্ছেদের নির্বাহী দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। উক্ত আদেশের আলোকেই ২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অভিযানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আইনি আদেশের চূড়ান্ত বাস্তবায়নে গত ১০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে রাস্তার পরিধি সংকুচিত করে রাখা জরাজীর্ণ অবৈধ ওই দুটি দোকানঘর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদের মাধ্যমে মোড়টি দীর্ঘদিন পর আলোর মুখ দেখেছে। অভিযান শেষে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও কলেজ শিক্ষার্থীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। সচেতন মহলের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী ভয়ভীতি দেখিয়ে যে জনস্বার্থকে আটকে রাখা যায় না এই অভিযান তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা এখন দ্রুততম সময়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন করে স্থায়ী যানজট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।




















