ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোদায় অবৈধ সার মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় : ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধন কুমিল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান আমতলীতে খাঁচায় আটক ৭ পাখি উদ্ধার, বনে অবমুক্তকরণ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে মডেল মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ মাসে ৭০ আত্মহত্যা, পরিবার-সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান পুলিশের

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তাঁর পালিত কন্যা ইতি।

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি চলন্ত ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খালেদা আক্তার ও তাঁর ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল দীর্ঘদিনের।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তাঁর ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই হামলায় আবু মিয়া দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

হামলার পর ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি আবু মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

পুলিশের একটি দল এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি ট্রেনে অবস্থানরত অবস্থায় মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ট্রেনে করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মূল আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, একই পরিবারের দুই সদস্যকে এভাবে হত্যার ঘটনায় দড়ানীপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে আহাজারি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও তাঁর পালিত কন্যা ইতি।

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি চলন্ত ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খালেদা আক্তার ও তাঁর ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল দীর্ঘদিনের।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তাঁর ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই হামলায় আবু মিয়া দা দিয়ে কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম তুতুকে হত্যা করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

হামলার পর ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হনুফা বেগম ও ইতি গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি আবু মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

পুলিশের একটি দল এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি ট্রেনে অবস্থানরত অবস্থায় মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ট্রেনে করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মূল আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, একই পরিবারের দুই সদস্যকে এভাবে হত্যার ঘটনায় দড়ানীপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে আহাজারি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।