ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে বিধবা নারীর ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উত্তোলনের অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলো।
রবিবার ৩০ আগস্ট দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো।
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছা. রহিমা বেগম ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি।
পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে রহিমা জানতে পারেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার নামে বরাদ্দকৃত বিধবা ভাতার টাকা ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে ওই নম্বর ব্যবহার করে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রের দাবি, গত ছয় বছরে ওই নম্বরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পাঠানো ও উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের পক্ষে তার ছেলে মো. জহুরউদ্দীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ভাতার টাকা উদ্ধার করে তার মাকে ফেরত দেয়া এবং ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদটি প্রশাসনের নজরে এসেছে।
এছাড়া ভুক্তভোগীর ছেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”



















