শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন

তেঁতুলিয়ায় জাল সনদে প্রভাষকের চাকরি, এমপিও বাতিল ও মামলার প্রক্রিয়া চলমান 

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলার একমাত্র মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ। উক্ত কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নার বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়ে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সনদটি জাল হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও বাতিল, নিয়োগ বাতিল, মামলা দায়ের এবং সরকারি অনুদান ও বেতন-ভাতা বাবদ গ্রহণ করা অর্থ আদায়ের সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে এমপিও (অনুদান ও বেতন-ভাতা বাবদ সহায়তা) বাতিল, গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

গত ২৩ মে মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা-৩ থেকে প্রকাশিত একাধিক দাপ্তরিক চিঠিতে এ শাস্তিমূলক কার্যক্রমের তথ্য জানানো হয়। মাউশির সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং স্কুল পর্যায়ের ৬১ জন রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ের অভিযুক্তদের তালিকায় প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নার নামও রয়েছে।

এনটিআরসিএর তালিকা অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের দশম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৪-এর সনদটি বৈধ নয়। সংশ্লিষ্ট রোল নম্বরধারী পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছিলেন বলে যাচাইয়ে উঠে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না বলেন, তিনি মাউশির দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তার দাবি, জাল সনদের তালিকায় যে নিবন্ধন সনদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সেই সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হননি; বরং অন্য একটি সনদের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, তিনি কলেজে যোগদানের আগেই মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। মাউশির শোকজ পাওয়ার পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তার মতে, নিয়োগের সময় নিয়োগ কমিটিরই এসব নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাউশি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন সনদকে জাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031