পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ১নং ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তামিনা (১৪) গত ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবার। তবে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার দাবি করেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান তাহমিনার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে অবগত আছেন। নিখোঁজ তাহমিনার পরিবারের অভিযোগ, তামিনা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান নিজের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময় ছাত্রীর দাদীর মুঠোফোনে কল করেন। সে সময় তিনি জানান যে, তাহমিনা চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ভালো আছে। তাকে খোজার দরকার নেই। কিন্তু পরবর্তীতে পরিবার থেকে তার কাছে এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি মোবাইল ফোনের সেই কথোপকথন ও তাহমিনার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। প্রধান শিক্ষকের এমন রহস্যজনক আচরণে ক্ষোভ ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের মনে।ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের মেয়েকে ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সকালে প্রতিদিনের মতোই বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তামিনা। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে বিদ্যালয় এবং তার সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সেদিন স্কুলেও পৌঁছায়নি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে কয়েকদিন পর ওই শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান নিজের পরিচয় গোপন করে নিখোঁজ তামিনার দাদীর কাছে মুঠোফোনে তামিনার অবস্থান চট্রগ্রাম কখনো ঢাকায় বলে জানান। তামিনা ভালো আছে তিনজন পুরুষকে সঙ্গ দিচ্ছে এমন কথা ছাড়াও অনেক অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। পরে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার মুঠোফোনের কণ্ঠটি প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমানের বলে চিহ্নিত করেন। পরিবারের লোকজন প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমানের কাছে সাক্ষাৎ করে তাদের মেয়েকে ফেরত চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেন।
ওই শিক্ষার্থীর দাদী সমিজা বেগম কাদো গলায় বলেন, আমার আদরের নাতনী সারাক্ষণ আমার সাথে থাকতো, আজ ২৬ দিন ধরে সে নিখোঁজ। ফজলার মাষ্টার দশদিন পর মোবাইলে তামিনার খবর দিয়েছে। এছাড়াও অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছে। আমি টাকা পয়সা যা লাগে দিতে চেয়েছি কিন্তু এখন অস্বীকার করে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমার নাতনীকে ফিরিয়ে দেন আর কিছুই চাইনা।
মা রুনা বেগম বলেন, এতদিন ধরে আমার মেয়েটা স্কুল যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ। অনেক খোজাখুজির বেশ কয়েকদিন পর নিজের পরিচয় গোপন করে আমার মেয়ের স্কুলের হেড মাষ্টার ফজলার মেয়েটা তার কাছে আছে এবনহ তার কথা শুনেনা বলে জানায়। তিন জন পুরুষ তার সাথে আছে অনেক কিছু করে এরকম অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলে। পরে আমরা বুঝতে পেরে ফজলার স্যারের দেখা করে মেয়েটাকে ফিরিয়ে চাইলে অকথ্য গালাগালি সহ হুমকি ধামকি দিয়ে বের করে দেয়। আমরা গরীব মানুষ থানা পুলিশকে জানিয়েও এর কোন সুরাহা পাইনি। কেউ আমাদের মূল্যায়ন করছেনা। আমার ছোট্ট মেয়েটাকে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে আকুল আবেদন করছি।
বাবা আলতাবুর জানান, মেয়েটা হারিয়ে যাবার পর বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেয়েকে উদ্ধার করতে পারিনি উল্টো এখন আমাকেই ক্ষতির স্বীকার হতে হবে বলে নানা মাধ্যমে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।
নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা সামছুল আলম জানান, একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রীকে নিয়ে এরকম আচরণ মেনে নেয়া যায়না। এই প্রধান শিক্ষক চরিত্রহীন এর আগেও তার এরকম ঘটনা রয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে এই ঘটনার সুরাহা করা উচিত।
নতুনহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলার রহমান বলেন, যে নাম্বার থেকে মেয়ের দাদীকে কল করার কথা বলা হচ্ছে সেটি আমার নাম্বার নয়, আমার চাচার নাম্বার। কল রেকর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কন্ঠ নকল করে কেউ কথা বলেছে হয়তো। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ভাবে বসে ফয়সালা করার চেষ্টা চলছে। এর আগেও তার নামে ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা জানান, এই বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কিছুদিন আগে মৌখিক ভাবে জানিয়েছিল সহকারী পরিদর্শক তৌহিদ এটির প্রকৃত ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখছে।