সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বছরের পর বছর বেহাল দশার কারণে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে থাকা জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কে অবশেষে সংস্কার কাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে।
দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ, কাদা আর ভাঙা সড়কের কারণে যাত্রী ও মালবাহী যান চলাচল ছিল কষ্টকর। বর্ষায় এই সড়ক প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। হাসপাতাল, বাজার, স্কুল-কলেজে যেতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো স্থানীয়দের।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কার্পেটিং, প্যাচ ওয়ার্ক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে প্রায় ৫০% নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে ফেলছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন শ্রমিকরা।
সংস্কারের খবরে খুশি জামালগঞ্জ ও সেলিমগঞ্জের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
জামালগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হক বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ি চলাচল করে। রাস্তা ভালো না থাকায় মালামাল আনতে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগত। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী আগামী মাসেই স্বপ্নের এই সড়ক ব্যবহার করতে পারবো।
কলেজ শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় গাড়ি আটকে যেত। পরীক্ষা দিতে যেতে অনেক ভুগতে হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে কষ্টের দিন শেষ হবে।”
জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কটি সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের সাথে জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী আনা-নেওয়া এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এই সড়কের উপর নির্ভরশীল লাখো মানুষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সড়কটির উন্নয়ন হলে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আপাতত কাজ চলমান থাকায় কিছু জায়গায় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। তবে মানুষ বলছেন, কয়েকদিনের কষ্ট মেনে নিয়েও তারা ভালো একটি সড়ক চান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সারোয়ার জাহান প্রাইভেট লিমিটেডের প্রোপাইটর নুরে আলম মিল্টন জানান, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজের প্রতিটি ধাপে গুনগত মান বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় বিটুমিনের কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে কাজ সাময়িকভাবে ধীরগতি পেয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি বাড়াব।
“জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। আশা করছি খুব দ্রুত এই সড়কের কাজ সম্পন্ন করে এলাকাবাসীর যাতায়াত আরও সহজ করে দিতে পারবো।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রজত কান্তি দাশ বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো অতি দ্রুত সড়কটিকে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা।কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে যাচ্ছি, যেন কাজের মানের কোনো ঘাটতি না থাকে।আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
সংস্কার কাজ শেষ হলে জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।