আতাউর রহমান, রাজিবপুর, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে উন্নত জাতের ছাগল, মুরগি এবং প্রাণী পালনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত আবাসন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে গৃহীত এ কর্মসূচির আওতায় ২৪টি অসচ্ছল পরিবারের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেয়া হয়।
শনিবার সকাল ১১টায় কোদালকাটি ইউনিয়নে গরিব উন্নয়ন সংস্থা (GUS)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে একটি উন্নত জাতের ছাগল, ১০টি মুরগি, এক মাসের পশুখাদ্য এবং ছাগল ও মুরগি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত আবাসন সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক, গরিব উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ কে এম এহসানুল করিম গ্রুপের স্বনির্ভরতা প্রকল্প (যাকাত তহবিল)-এর অর্থায়নে এবং গরিব উন্নয়ন সংস্থা (GUS)-এর বাস্তবায়নে এ কর্মসূচিপরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।অনুষ্ঠানে গরিব উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক আব্দুল লতিফ বলেন, “সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু এককালীন সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের হাতে এমন সম্পদ তুলে দিতে হবে, যা থেকে তারা নিয়মিত আয় করতে পারবেন। যাকাতভিত্তিক এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জীবন বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, উন্নত জাতের ছাগল ও মুরগি পালন উপকারভোগীদের ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত লালন-পালন নিশ্চিত করতে উন্নত আবাসন ব্যবস্থার উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে, যা রোগবালাই কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।
সহায়তা পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, ছাগল ও মুরগি পালন করে পরিবারের আয় বৃদ্ধি, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী।
গরিব উন্নয়ন সংস্থার (GUS) আব্দুল লতিফ জানান, চরাঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকায়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।