স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি তেলের দাম অসহনীয়ভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং ও হারিকেন মিছিলের আয়োজন করেছে। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শাহবাগের পরীবাগ পেট্রোল পাম্পের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে সরকার কথা দিয়েছিল আর তেলের দাম বাড়াবে না। অথচ আমরা দেখলাম, দেশের মানুষ যখন ঈদ আনন্দে ব্যস্ত তখন হঠাৎ করে রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে সকল নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এখন আমাদের প্রশ্ন, এই যে সরকার বাড়বার তেলের দাম বাড়াচ্ছে, তারা কি জনসাধারণের কথা একবারও ভাববে না?’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুলশান বনানীর সরকার। তারা উচ্চবিত্ত মানুষের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। জনসাধারণের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয় না। নাহলে এত দ্রুত আবার তেলের দাম বৃদ্ধি করত না।’
সরকার জ্বালানী ক্ষেত্রে লুটপাট করছে জানিয়ে যুবশক্তির সভাপতি বলেন, ‘ এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার যেমন জ্বালানী ক্ষেত্রে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে, বর্তমান সরকার একই কায়দায় লুটপাট করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোগান্তির সমাধান না করে নিজের পিআর ক্যাম্পেইন নিয়ে ব্যাস্ত। তার পিআর ক্যাম্পেইন দেখলে মনে হয়, জনগণের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে তিনি গুলশান-বনানীর প্রধানমন্ত্রী হতে চান।’
ইসলামী ব্যাংক দখলের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের উচিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ইস্যুগুলোর সমাধান করা। অথচ আমরা দেখলাম বিগত পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো করে তারা ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। আজ ইসলামী ব্যাংক দখলের প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা করে সরকার প্রমাণ করেছে তারা এই দেশে বিএনপি বাদে আর কাউকে থাকতে দিতে চায় না। তারা চায় বিগত সরকারের মতো গৃহপালিত বিরোধী দল। জনগণ বাংলাদেশে আর গৃহপালিত বিরোধী দল দেখতে চায় না।’
সবশেষে যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘সরকার যতদিন জনগণের পক্ষে কাজ করবে, আমরা বলব- বিএনপি সরকার বারবার দরকার। কিন্তু সরকার যদি জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়া হবে।’
সভাপতি ছাড়াও জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।