তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হকের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকার সরকারি অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে ২০ হাজার টাকা কেটে রাখার গুরুতর জালিয়াতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার তীব্র ঝড় বয়ে যাচ্ছে।ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী সুবলের স্ত্রী ও সন্তান জানান, সরকার থেকে তাদের নামে মঞ্জুর হওয়া ৫০ হাজার টাকার অনুদান বুঝিয়ে দেয়ার পর ইউপি সদস্য নুরুল হক তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা রেখে দেন। টাকা রাখার কারণ হিসেবে নুরুল হক মেম্বার দাবি করেন বাকি টাকা ওপরের অফিসারকে দিতে হবে। অসহায় পরিবারটি বাধ্য হয়ে ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে নুরুল হক মেম্বার তড়িঘড়ি করে সুবলের ছেলের মুঠোফোনে (বিকাশ/নগদ বা সেন্ড মানির মাধ্যমে) সেই কেটে রাখা ২০ হাজার টাকা ফেরত পাঠান। সুবলের স্ত্রী ও সন্তান বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে সত্য বলে স্বীকার করেছেন।পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও বিভ্রান্তি
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত নুরুল হক মেম্বারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দাবি করেন, আমি কোনো টাকা অনিয়ম করে নেইনি। এই ২০ হাজার টাকা সুবলের পরিবারের কাছ থেকে হাওলাত (ধার) হিসেবে নিয়েছিলাম, যা পরবর্তীতে ফেরত দিয়ে দিয়েছি।
তবে সুবলের পরিবারের বক্তব্য এবং মেম্বারের এই বক্তব্যের মধ্যে চরম অমিল পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিবারটির স্পষ্ট দাবি—এটি কোনো ধার বা হাওলাত ছিল না, বরং অফিসারদের নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক কেটে রাখা টাকা ছিল। মেম্বার ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্যের এই অসঙ্গতি স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পূর্বের রেকর্ড
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি পূর্বে কিছুই জানতেন না এবং ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নুরুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে এরকম নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ইউপি সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।