ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ১৩ বছরের ছেলের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা যুবদলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান খুলনায় ভাত চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ের হত্যার অভিযোগ  ঈশ্বরগঞ্জে গাঁজাসহ যুবক আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন-পৌরসভার বিশেষ অভিযান চরফ্যাশন উপজেলা সমিতির জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শিবগঞ্জে মশক নিধন দিবসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে নির্মাণকাজ  দিরাইয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বানিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ : দুই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত আবেদন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর চালবন চেকপোস্ট

হাওরপাড়ের আর্তনাদ: সোনালি ধান এখন কৃষকের চোখের জল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:০৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ঘামঝরানো পরিশ্রম আর বুকভরা আশা সবই যেন নিমিষেই ধুয়ে গেল গত কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে। সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরগুলোতে এখন উৎসবের বদলে চলছে শোকের মাতম। যে সোনালি ধান ঘরে তুলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা ছিল, সেই ধান এখন পানির নিচে পচছে। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
মমিন আলীসহ হাজারো কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ
সরেজমিনে আটগাঁও তথা অষ্টগ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। কৃষক মমিন আলীর ৮ একর জমির ধান এখন জলমগ্ন। ঋণ আর ধারের বোঝা মাথায় নিয়ে দিনরাত এক করে ফসল ফলিয়েছিলেন তিনি। আট সদস্যের বিশাল পরিবারের সারা বছরের আহার আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ—সবই ছিল এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।
বাকরুদ্ধ মমিন আলী ভেজা চোখে বলেন,সব তো শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব? পাওনাদাররা দরজায় আসবে, কিন্তু তাদের দেওয়ার মতো কিছুই আমার কাছে অবশিষ্ট নেই। এই হাহাকার আজ দিরাই-শাল্লার প্রতিটি হাওরপাড়ের মানুষের। এক নজরে বর্তমান সংকটখাদ্য অনিশ্চয়তা ঘরে বছরের খোরাকি চালটুকু তোলার সুযোগ পাননি অধিকাংশ কৃষক। ফলে সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঋণের মরণফাঁদ ব্যাংক ঋণ এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির টাকা কীভাবে শোধ হবে, তা নিয়ে কৃষকরা দিশেহারা।
মানসিক বিপর্যয় দীর্ঘদিনের খাটুনি বৃথা যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল সামান্য ত্রাণ দিয়ে এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষিঋণ মওকুফ এবং আগামী মৌসুমের জন্য সার-বীজসহ বিশেষ সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।
দিরাই-শাল্লার এই মানবিক বিপর্যয় কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার গল্প। প্রান্তিক এই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো হাওরপাড়ের মানুষগুলো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সামনে মানুষ আজ অসহায়, কিন্তু সহমর্মিতা ও সঠিক সহযোগিতা পারে তাদের বেঁচে থাকার পথ দেখাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :