ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোদায় অবৈধ সার মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় : ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধন কুমিল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান আমতলীতে খাঁচায় আটক ৭ পাখি উদ্ধার, বনে অবমুক্তকরণ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে মডেল মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ মাসে ৭০ আত্মহত্যা, পরিবার-সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান পুলিশের

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে মাভাবিপ্রবির ৬ উদ্ভাবনী প্রকল্প, স্টল পরিদর্শনে উপাচার্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:১২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি : রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’—‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।

মেলায় দেশের ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও উদ্যোগ এতে প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্লেনারি সেশন, সমান্তরাল অধিবেশন ও গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের মেলায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। এ সব প্রকল্পে নিরাপদ সড়ক, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

মেলায় মাভাবিপ্রবির প্রদর্শিত প্রকল্পগুলো হলো—

১. ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা।

উপস্থাপক অধ্যাপক ড. শাহীন উদ্দীন।

২. নিউট্রিকেয়ার সফটওয়্যার ফর ডায়েটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হেলথ কেয়ার মডেল।

প্রকল্পটি অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক ও তাঁর দুই তরুণ গবেষকের উদ্ভাবন। উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম সফটওয়্যারটি উদ্বোধন ও উন্মোচন করেন।

৩. খাদ্য ও স্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্ভাবন।

এর মধ্যে রয়েছে ‘সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি’ এবং ডুমুরের (Ficus carica) অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নির্ণয়ে ইন-সিলিকো স্ক্রিনিং, ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন। প্রকল্পের উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক ও অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম।

৪. পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ।

উপস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার।

৫. মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ।

উপস্থাপক অধ্যাপক আবীর হোসেন।

৬. স্মার্টফোন-সহায়িত ডিস্ট্রিবিউটেড নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।

উপস্থাপক আরিফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক।

মাভাবিপ্রবির এসব প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও স্বাস্থ্য, পাটের আঁশের বহুমুখী ব্যবহার এবং ইন্টারনেটবিহীন বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে পাটের তন্তু থেকে উন্নত ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় উপকরণ তৈরির উদ্যোগ, সবজি ও ডুমুরভিত্তিক খাদ্যপণ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো উদ্ভাবনগুলো মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ড্রাইভ গার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে বুদ্ধিমান চালক সহায়তা ব্যবস্থা এবং মেশিন লার্নিংভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ তুলে ধরা হচ্ছে।

এ দিকে মেলায় মাভাবিপ্রবির স্টল পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণের বিভিন্ন দিক উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেন।

মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারমুখী করা।

মেলায় মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্পের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষকদের উদ্ভাবনকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে মাভাবিপ্রবির ৬ উদ্ভাবনী প্রকল্প, স্টল পরিদর্শনে উপাচার্য

আপডেট সময় : ১১:২২:১২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি : রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’—‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।

মেলায় দেশের ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও উদ্যোগ এতে প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্লেনারি সেশন, সমান্তরাল অধিবেশন ও গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের মেলায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। এ সব প্রকল্পে নিরাপদ সড়ক, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

মেলায় মাভাবিপ্রবির প্রদর্শিত প্রকল্পগুলো হলো—

১. ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা।

উপস্থাপক অধ্যাপক ড. শাহীন উদ্দীন।

২. নিউট্রিকেয়ার সফটওয়্যার ফর ডায়েটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হেলথ কেয়ার মডেল।

প্রকল্পটি অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক ও তাঁর দুই তরুণ গবেষকের উদ্ভাবন। উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম সফটওয়্যারটি উদ্বোধন ও উন্মোচন করেন।

৩. খাদ্য ও স্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্ভাবন।

এর মধ্যে রয়েছে ‘সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি’ এবং ডুমুরের (Ficus carica) অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নির্ণয়ে ইন-সিলিকো স্ক্রিনিং, ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন। প্রকল্পের উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক ও অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম।

৪. পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ।

উপস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার।

৫. মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ।

উপস্থাপক অধ্যাপক আবীর হোসেন।

৬. স্মার্টফোন-সহায়িত ডিস্ট্রিবিউটেড নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।

উপস্থাপক আরিফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক।

মাভাবিপ্রবির এসব প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও স্বাস্থ্য, পাটের আঁশের বহুমুখী ব্যবহার এবং ইন্টারনেটবিহীন বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে পাটের তন্তু থেকে উন্নত ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় উপকরণ তৈরির উদ্যোগ, সবজি ও ডুমুরভিত্তিক খাদ্যপণ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো উদ্ভাবনগুলো মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ড্রাইভ গার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে বুদ্ধিমান চালক সহায়তা ব্যবস্থা এবং মেশিন লার্নিংভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ তুলে ধরা হচ্ছে।

এ দিকে মেলায় মাভাবিপ্রবির স্টল পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণের বিভিন্ন দিক উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেন।

মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারমুখী করা।

মেলায় মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্পের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষকদের উদ্ভাবনকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে।