পঞ্চগড়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়ায় প্রকৌশলী ও জনতাকে হুমকি, মামলা ; ১ জন গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি :পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি রাস্তা নির্মাণে সিডিউল বহির্ভূত নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় এলজিইডি-র উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও স্থানীয় জনতাকে প্রাণনাশের হুমকি ও মারধর করার অভিযোগে বোদা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো: শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন রাস্তার দুই ধারের এজিং-এ অত্যন্ত নিম্নমানের ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করার খবর পেয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো: ফিরোজুর রহমান এবং সার্ভেয়ার মো: হযরত আলী সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
ঘটনাস্থলে নিম্নমানের কাজের সত্যতা পেয়ে কর্মকর্তারা কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম। এ সময় তিনি এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন সহযোগী বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে এলজিইডি কর্মকর্তাদের সামনেই ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনকে উদ্দেশ্য করে তারা বুক ফুলিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা যেমন ইচ্ছা তেমন করে রাস্তার কাজ করব। কেউ বাধা দিতে আসলে জানে মেরে ফেলব।”
ঠিকাদারের এমন ঔদ্ধত্য দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রকৌশলীরা বোদা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীনকে পুলিশ হেফাজত ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোঃ হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর- ৩১ (তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩)।
মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থল সংলগ্ন জনৈক মোঃ মিনারুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণে ব্যবহারের জন্য আনা ১০০ পিস নিম্নমানের ইট (যাতে MMR2 লেখা রয়েছে) জব্দ তালিকা মূলে আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান জানান, নিম্ন মানের ইট দিয়ে এজিং করায় ওই ঠিকাদার কে আগেও সতর্ক করা হয়েছিলো কিন্তু তারা সে কথা না শুনে ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানাতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো দুর্ব্যবহার করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে।
এলজিইডি পঞ্চগড় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম কালবেলা কে জানান, সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার সহ দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করায় মামলা দায়ের হয়েছে। আইনি ভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “সরকারি কাজে বাধা, অর্থ অপচয়, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”









