শিরোনাম :
সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন নাচোলে কৃষক বেশে আত্মগোপনে থাকা ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে খেলার ছলে ডেকে নিয়ে দুই বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ি প্রতিনিধি দলের সাথে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় আমরা ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র তরুণদেরকে সাধুবাদ জানাই : নাহিদ ইসলাম ‎মোহাম্মাদিয়া হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এমপি মোস্তাফিজুর রহমান গফরগাঁওয়ে কমরেড আজিম উদ্দীন মাস্টার এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত পলাশবাড়ীতে বিদ্যালয়ের বারান্দায় জাতীয় পতাকা ফেলে রাখার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের চরফ্যাশন পোস্ট অফিস সংস্কার কাজ বন্ধের ৩ বছরেও হয়নি নতুন ভবন নির্মাণ; জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চলছে কার্যক্রম বাগেরহাটের রামপাল খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে চায়না প্রতিনিধির পরিদর্শন
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

তেঁতুলিয়ায় এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

Reporter Name
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

মোঃ সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শালবাহান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুইজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী কৃষি শিক্ষক সোহেল রানার বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সোহেল রানা। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে একটি কক্ষে এসএসসি পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের খাতা ভুল সংশোধন করে নকল বাণিজ্য, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া এবং টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেয়ার মতো অভিযোগও ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সব বিতর্কের পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং পরবর্তীতে তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই দুই শিক্ষককে একই পদে দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরমভাবে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজী বেগম গত ২৯ জুন তার শেষ কর্মদিবসে লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে পরদিন ৩০ জুন নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে সহকারী কৃষি শিক্ষক সোহেল রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।

তবে সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে সদস্য সচিব (প্রধান শিক্ষক)-এর স্বাক্ষর থাকার বিধান থাকলেও সেদিন কেবল নবগঠিত কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরযুক্ত রেজুলেশনই দেখাতে সক্ষম হন সোহেল রানা। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর ৩০ জুন সোহেল রানা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজেকে বিদ্যালয়ের ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ পরিচয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।” ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদিত। তার ভাষ্য, এটি ২০২৫ সালের ভিডিও এবং তখন তিনি পরীক্ষার খাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখছিলেন। প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অপরদিকে সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, “বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আমাকে লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেই দায়িত্বপত্রের ভিত্তিতেই আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।” তার অভিযোগ, লিখিতভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সোহেল রানা আগেভাগেই অবৈধভাবে রেজুলেশন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসেছেন এবং জোরপূর্বক দায়িত্ব দখল করেছেন।

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজী বেগম জানান, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সোহেল রানার দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নকল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ থাকায় তিনি বিধি অনুসারে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে তিনি অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানতে পারেন। তার দাবি, অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটির রেজুলেশনে যে সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে, তার দায়িত্বকালে ওই সূত্রে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে কোনো আবেদন পাঠানো হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, তাদের দপ্তরে সোহেল রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার চিঠি এসেছে। একই সঙ্গে সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ওএমআর শিট-সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো ব্যাখ্যা না দিয়ে সময় চেয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেনস তবে বিষয়টি জানার পর তিনি বলেন এক বিদ্যালয়ে দুইজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকার বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা মনে করেন একই বিদ্যালয়ে দুইজন প্রধান শিক্ষক থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং প্রশাসনিক কাজেও হবে জটিলতা। তাই অনতিবিলম্বে শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশাসনের কাছে সুস্থ সমাধান প্রত্যাশা করেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930