তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কমে, বাড়ছে শীত : ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
মোঃ সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলায় তাপমাত্র কমতে শুরু করেছে বাড়ছে শীতে। এতে শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের বিভিন্ন শীর্জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের প্রভাব বাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষ শীতবস্ত্র ক্রয় করতে শুরু করছে। সর্বোত্তরের সীমান্ত ঘেষা হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরের মিল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে উত্তরের হিমালয় কন্যা নামে খ্যাত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। গেল কয়েকদিনের তুলনায় রবিবার ৮ নভেম্বর আবারও তাপমাত্রা কমে এসেছে।
দিনের বেলা গরম আবহাওয়া বিরাজ করলেও রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পাহাড়ি হিমেল বাতাসে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। সেই সঙ্গে নামতে শুরু করেছে কুয়াশা। রাত যত ঘনিয়ে আসে কুয়াশা তত বাড়তে থাকে ভোরে কুয়াশায় ডেকে যায় ,অধিকাংশ সময় দিনের বেলায় ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে জেলার চারপাশ।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে আজ রোববার সকাল ৬টা ও ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার ভোর সকাল থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত কুয়াশার পরিমাণ কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে উত্তর-পশ্চিম থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি হীম বাতাসের তীব্রতা ছিল।
স্থানীয়রা বলছেন রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা হওয়ায় রাতে ম্যাপ, কাতা, ব্যবহার করে শীত নিবারণ করা হচ্ছে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে গরম কাপড় পড়ে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা ও কম্বল বিক্রেতা নুরু মিয়া জানান সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আস্তে আস্তে শীতের অনুভূতি বাড়ে। রাতে কম্বল কাথা ছাড়া ঘুমানো যায়না। একই সাথে সকালে গরম কাপড় ছাড়া বের হওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রভাবে শীত বস্ত্র বিক্রি ধীরে ধীরে বেড়ে চলছে। তেতুলিয়ায় রাতের বেলায় পর্যটক আসার পর শীতের তীব্রতা দেখে তারা শীতবস্ত্র হিসাবে কম্বল সুইটার কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে শীত নেমে গেছে। কোন কোন সময় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে আবার কোন কোন সময় হালকা। তবে দিনের মেলায় গরম আবহাওয়া থাকলেও রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র ভাবে শীতের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাতে ও সকালে শীতের কাপড় ছাড়া গাড়ি চালানো যায় না। গাড়ি চালানোর সময় প্রচন্ড ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগে। পাথর শ্রমিকরা ভোর রাতে পাথর উত্তোলনের কাজে বের হলে জ্যাকেট পড়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এরই মাঝে রোববার সকাল ছয়টায় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও একই তাপমাত্রা সকাল নটায় রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ ছিল।
এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এদিকে আগামীতে পর্যায়ক্রমে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে বলেও জানান তিনি।



















