ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে দেবহাটায় আনন্দ মিছিল সাতক্ষীরা মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’-এর আলোচনা সভা শিবগঞ্জে ১১ মাসের শিশু অপহৃত, উদ্ধার ও গ্রেফতার ২ “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গোপালগঞ্জ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ”  গোবিপ্রবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে নবীন বরণ : দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব বিকাশের আহ্বান ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান গোপালগঞ্জ বিল থেকে জাল উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম পুলিশকে মারপিট  সড়কে বাস ও প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, নিহত ২ রাজিবপুরে স্ববল প্রকল্পের ৪ হাজার ২০০টি গাছের চারা বিতরণ বাস-কনটেইনারের সংঘর্ষে পথচারীর মৃত্যু

সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে কান্নার রোল: স্বপ্ন ধূলিসাৎ, তবুও টিকে থাকার লড়াই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন এক বিভীষিকাময় চিত্র। যে হাওর ছিল দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের আধার, অকাল বন্যা আর প্রকৃতির বৈরিতায় তা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কৃষকের সারা বছরের ঘামঝরানো স্বপ্ন চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে। যে সামান্য কিছু ধান কৃষকরা পানি থেকে টেনে তুলতে পেরেছেন, তা শুকানোর জন্য খলার মাঠে চলছে এক প্রাণান্তকর লড়াই। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এই যুদ্ধে শামিল হয়েছে। প্রতিটি কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে নেই কোনো হাসি, আছে কেবল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বেঁচে থাকার আকুতি
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হাওরজুড়ে থইথই পানির মাঝে উঁচুমতো খলার মাঠে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচে যাওয়া ধানের খড়। কৃষকরা সেই খড় ও ধান রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন। তবে রোদের তেজ থাকলেও ফসলের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। কৃষকদের মতে, এবারের এই বিপর্যয় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় আর স্বপ্নকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
কৃষকের আহাজারি
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। ফসল হারিয়ে এখন তারা ঋণের বোঝা আর খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন। এক কৃষক করুণ সুরে বলেন, “গোলার ধান তো পানির তলে, অখন পরিবার নিয়া কী খাইমু হেই চিন্তায় ঘুম আহে না।”

হাওরপাড়ের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন। কৃষিঋণ মওকুফ এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য সরকারি প্রণোদনার জোরালো দাবি উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ আর যথাযথ তদারকি থাকলে হয়তো এত বড় বিপর্যয় এড়ানো যেত।
সুনামগঞ্জের আকাশ এখন কালো মেঘমুক্ত হলেও হাওরবাসীর মনে জমেছে বেদনার মেঘ। ধূলিসাৎ হওয়া স্বপ্নগুলোকে পুনরায় গুছিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী সরকারি পরিকল্পনা ও মানবিক সহায়তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :