রাজিবপুরে জলবদ্ধতায় তলিয়ে থাকে ফসলি জমি; প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আতাউর রহমান, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকার কারণে তলিয়ে রয়েছে পাঁচশত একর ফসলি জমি। প্রতিবছর বন্যা বা ভারী বর্ষণের পর আশেপাশের এলাকায় পানি নেমে গেলেও রয়ে যায় ফসলি জমির পানি।
২০০ একর জমি আমন রোপন করতে পারলেও জলবদ্ধতার কারণে কোন ফসল রোপণ করতে পারেনা ৩ শত একর জমিতে। যদিও শুকনো মৌসুমে শুধুমাত্র ইরি বা বোরো ধান রোপন করা হয়। তাও আগাম বৃষ্টি হলে সেই ফসলও যায় তলিয়ে।
এতে তিন ফসলের জায়গায় দুই ফসল চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উক্ত এলাকার কৃষক। গত ৫ বছর ধরে এমন জলবদ্ধতার অবস্থান কুড়িগ্রামে রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়ামারী নয়াপাড়া ও শিবির ডাঙ্গী নয়াপাড়ায় এলাকা জুড়ে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকা থেকে শিবের ডাঙ্গী নয়াপাড়ায় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ফসলি জমি জলবদ্ধতায় রয়েছে।
ভারি বর্ষণ কিম্বা বন্যার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে একটি গুচ্ছ গ্রাম করে দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। উক্ত গ্রামে ৪৪ জন পরিবারের মধ্যে বসবাস করছে ১৮ জন। ঘরগুলো পরে থাকলেও ফসলি জমির পানি বের করে দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের কোন পথ না থাকায় তলিয়ে থাকে ফসলের জমি।
কৃষকদের অভিযোগ গত ৫ বছর থেকে বন্যার পানি ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে ফসলি জমি কিন্তু পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেই । জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
শিবের ডাঙ্গী নয়াপাড়া বর্গা কৃষক পালোয়ান বলেন, তার নিজের জমি না থাকলেও তিনি ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। জলাবদ্ধতার কারণে কোন ফসল চাষাবাদ করতে পারেনি তিনি। পানি নিষ্কাশনের কোন জায়গা না থাকায় বৃষ্টি হলে তলিয়ে থাকে তার ক্ষেতগুলো।
একই এলাকার ফরিজুল হোসেন মুক্তার জানান, পাঁচ একর জমি আছে ।গত মৌসুমে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। ভুট্টা উঠানোর সময় খেতে পানি জমে যায়। অর্ধেক ভুট্টা বৃষ্টির পানি জমে নষ্ট হয়েছে । এখন আমন ধান লাগানোর সময়। অথচ আমন রোপন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মরিচা কান্দি এলাকার লালমিয়া বলেন, তিনি ষাট শতক জমিতে ভুট্টা বপন করেছিলেন। শুকনা খেত থেকে তিনি ভুট্টা উঠাতে পারেনি ।পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তিনি ভুট্টা গাছ থেকে আলাদা করতে পেরেছেন খুব কষ্টে।
নয়াপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, এই এলাকায় তার ২ একর জমি আছে। শুধুমাত্র ইরিধান ছাড়া অন্য কিছু আবাদ করতে পারেন না।
শিবেরডাঙ্গী নয়াপাড়া বিশিষ্ট কৃষক আব্দুল বারী জানান, তার অধিকাংশ জমি জলবদ্ধতার থাকার কারণে শুধুমাত্র একটি ফসল ফলাইতে পারেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে এই জমিগুলোর উত্তর পাশে একটি গুচ্ছগ্রাম করে দেয়। এগুচ্ছ গ্রামের কারণে যেখান দিয়ে পানি বাহির হয়ে যাইতো ,সেখানে মাটি ভরাট করে গুচ্ছ গ্রামের ঘর তুলে দেয়। অথচ একটি ঘরের পাশে একটি ড্রেনের ব্যবস্থা করে দিলে এ অবস্থা হত না।
কালভার্টের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে নালা বন্ধ করে দেয় ফলে আর পানি সেখান দিয়ে বাইর হতে পারে না । অথচ একটি পাইপের মাধ্যমে যদি একটু অথবা নালার মাধ্যমে যদি একটু ফাঁকা রাখত তাহলে সমস্ত এলাকার মাঠের পানি এই কালভার্টের নিচ দিয়ে বের হয়ে নদীতে চলে যেত। কিন্তু গুচ্ছগ্রাম দেয়ার ফলে এখন আর সে পানি বাড়ানোর কোন উপায় নেই।
৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুশামা দেওয়ান জানান, পানি বের হওয়ার কোন পথ না থাকার কারণে ফসল আবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছে এখানকার কৃষকরা।
রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই এলাকায় ৩০০ক কৃষক পরিবারের ৫০০ একর ফসলি জমি রয়েছে।
রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিরন মোঃ ইলিয়াস জানান, বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জোবায়ের জানান, কৃষকদের কথা বিবেচনা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেয়া দরকার।
চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা বলেন,আমি এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।




















