সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৬৩ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সত্তার সমর্থন ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মিছিল আয়োজনের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন ও সাবেক যুবলীগ নেতা দেওয়ান ইমদাদ রেজা সুয়েব চৌধুরী সহ ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮:৫০ টায় সুনামগঞ্জ শহরের সার্কিট হাউজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ বিষয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার বাদী হয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) আজিজুল হক। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে মাহমুদুল হাসান ফাহাদিন (২০) নামের এক তরুণকে।
এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও শ্রমিক লীগের একাধিক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, শীর্ষ স্থানীয় ও আওয়ামী লীগ নেতা: সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, সদস্য খায়রুল হুদা চপল, এডভোকেট মোঃ খায়রুল কবির রুমেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুব্রত তালুকদার সেতু, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রমজান, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা : সাবেক যুবলীগ নেতা দেওয়ান ইমদাদ রেজা সুয়েব, ফারুক আহমেদ সুজন, মাহমুদুল হাসান ফাহাদিন, সালেহ আহমদ ফাইয়াজ, মাহমুদুল হাসান পলাশ (সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগ), মেহেদী হাসান সাকিব (সহ-সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগ), আশিকুর রহমান রিপন (সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগ), শামসুল আবেদীন রাজন (সহ-সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগ), অরিন্দম মৈত্র অমিত (সহ-সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগ), হারুনুর রশীদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগ), রাহাত আহমদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগ) সহ অন্যান্যরা।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সত্তার কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে মিছিলের আয়োজন করে। এছাড়াও তারা অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তা প্রদান এবং জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
মামলার বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুয়েব চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। কাল্পনিক মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে রাজপথের আন্দোলন ও আওয়ামী লীগকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ রবিউল ইসলামকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।



















