ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে চায়না দুয়ারী জালে ধ্বংসের মুখে মৎস্য সম্পদ হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত সুনামগঞ্জে বাণিজ্যে মেলার নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, তাতীকোণায় ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার মিডিয়া কাপ টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন আমার নির্বাচনী আসনে হিন্দু মুসলিম সমান অধিকার নিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে বসবাস করবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  বাপুস এর নেতা পিন্টু মিত্রকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা : নিঃশর্ত মুক্তির দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল জব্দ অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক মাতাব্বর চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পিপি সুনামগঞ্জের আটগাঁও গ্রামে ট্রলারে অশ্লীল নাচের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়; অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় ৫৫ বছর: কুমিল্লা ডিসি অফিসে কান পরিষ্কার করে জীবনযাপন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর বিনই,রমাবল্লভ পুর, লাকসাম পৌরসভার কৃতি সন্তান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজও তিনি যুদ্ধদিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিস এলাকায় কান পরিষ্কারের কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিনয় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। সেই সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আলমগীর।

দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন রুহুল আমিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও বারবার নানা জটিলতায় তার আবেদন আটকে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মুক্তিযোদ্ধা এখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রুহুল আমিন বলেন,
“দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা এনেছি। কিন্তু আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুহুল আমিনের জীবনযুদ্ধ অত্যন্ত কষ্টের। প্রতিদিন কুমিল্লা ডিসি অফিস এলাকায় বসে কান পরিষ্কারের কাজ করে সামান্য আয় করেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত যাচাই-বাছাই করে রুহুল আমিনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের মতো অনেকেই এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিকার জন্য পথে বসে কাজ করতে হওয়া জাতির জন্যও বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির অপেক্ষায় ৫৫ বছর: কুমিল্লা ডিসি অফিসে কান পরিষ্কার করে জীবনযাপন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের

আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর বিনই,রমাবল্লভ পুর, লাকসাম পৌরসভার কৃতি সন্তান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজও তিনি যুদ্ধদিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিস এলাকায় কান পরিষ্কারের কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিনয় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। সেই সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আলমগীর।

দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন রুহুল আমিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও বারবার নানা জটিলতায় তার আবেদন আটকে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মুক্তিযোদ্ধা এখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রুহুল আমিন বলেন,
“দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা এনেছি। কিন্তু আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুহুল আমিনের জীবনযুদ্ধ অত্যন্ত কষ্টের। প্রতিদিন কুমিল্লা ডিসি অফিস এলাকায় বসে কান পরিষ্কারের কাজ করে সামান্য আয় করেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত যাচাই-বাছাই করে রুহুল আমিনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের মতো অনেকেই এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিকার জন্য পথে বসে কাজ করতে হওয়া জাতির জন্যও বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।