ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবসায় উন্নয়ন ও পর্যালোচনা সভা সাতক্ষীরার লাবসা স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ ঘুরে দেখলেন ডিসি কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসায় নবীন বরণ ও সুপেয় পানি প্রকল্পের উদ্বোধন সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষ্যে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের অবাধ বিচরণ, আতঙ্কে রোগী-স্বজনরা এমপি কামরুজ্জামান কামরুলের নির্দেশে তিন শিক্ষার্থীর ভর্তির দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে মধ্যনগরে বিএনপির বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে দেবীগঞ্জে মিছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ

গোপালগঞ্জে এজলাসে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক       

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:৩২ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছোড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী সমাজে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বিচারকের এমন সহিংস আচরণকে আদালত অবমাননা ও ফৌজদারি অপরাধের সামিল বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার ২২ জুলাই চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার আদালতে বিচারকাজ চলাকালীন এজলাসের পেছনের সারিতে উপস্থিত কয়েকজন মক্কেল নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া তাদেরকে নীরব থাকতে বলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা সাথে সাথেই শান্ত হয়ে গেলেও ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং নিজের টেবিলে থাকা ভারী পেপার ওয়েটটি মক্কেলদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে মারেন।

পেপার ওয়েটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় সজোরে আঘাত করে। তীব্র আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরবর্তীতে উপস্থিত সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আইনজীবীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এজলাসে বিচারকের এমন অনভিপ্রেত আচরণে গোপালগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বারের একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিচারক সুজন মিয়া প্রায়শই কোর্ট চলাকালীন মক্কেল ও আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ করে থাকেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকের আসন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থান। এজলাসে মেজাজ হারিয়ে এই ধরনের মারাত্মক শারীরিক আঘাত বা সহিংস আচরণ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৪/৩২৬ ধারা (মারাত্মক অস্ত্র বা বস্তু দিয়ে স্বেচ্ছায় আঘাত) এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর সরাসরি লঙ্ঘন। এটি বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং দায়ী বিচারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :