দেশিয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, কমবে খামারিদের ক্ষতি : কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নিয়ন্ত্রণে দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এলএসডি ভ্যাকসিন বাজারজাত হলে খামারিদের ব্যয় কমবে, সহজলভ্যতা বাড়বে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন দেশেই এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি খামারিদের উদ্দেশে বলেন, গবাদিপশুকে রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে দ্রুত তা অন্য পশুতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাস চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএলআরআই উদ্ভাবিত নতুন জাতের ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এ ঘাস চাষের মাধ্যমে কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এর আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ। এর মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক খামারি উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এলএসডি ও গোটপক্সের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে ২ হাজার ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।




















