ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুড়পুকুরপাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৬৩ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু পঞ্চগড়ে তরুণদের নিয়ে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু স্বপ্ন পূরণের আলোচনায় এম শহীদ, চামরদানী ইউনিয়নে বাড়ছে রাজনৈতিক সক্রিয়তা মাভাবিপ্রবির সঙ্গে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজের আগ্রহ লি শাওফেংয়ের কুমিল্লায় এক হাজার সুবিধাবঞ্চিতের মুখে একবেলার খাবার পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, যুবলীগের ৪ নেতাসহ আটক ১০ ইউটিউবার সোনাই পাগলার ওপর হামলা, জোর করে চুল কেটে দেয়ার ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন মানিক।

গ্রেপ্তার আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, নিহত যুবকের নাম মো. মেহেদী। তার বয়স ১৮ বছর। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নামে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদীকে হত্যা এবং তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মেহেদী হত্যার তদন্ত চলার মধ্যেই নাঙ্গলকোটে আরেক অটোরিকশাচালক নিখোঁজের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একপর্যায়ে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকের সম্পৃক্ততার তথ্যও পায় তদন্তকারী দল।

এরপর মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নাঙ্গলকোটের মেহেদী ও আরমান—দুই অটোরিকশাচালককে হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের অটোরিকশা ছিনতাই করা।

পুলিশের দাবি, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন। পরে তাদের সঙ্গে যাত্রী সেজে বা বিভিন্ন কৌশলে যোগাযোগ করে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই করা হতো।

তদন্তকারীদের মতে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালকদের টার্গেট করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে মানিককে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকের বিরুদ্ধে।

ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফলে অটোরিকশা ছিনতাইকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ডে মানিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ নাঙ্গলকোটের মেহেদী ও আরমান হত্যার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মেহেদী ও আরমান হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা এবং আরও কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মানিকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরপর অটোরিকশাচালক নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় নাঙ্গলকোটসহ আশপাশের এলাকায় অটোরিকশাচালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে অপরিচিত যাত্রী নিয়ে দূরবর্তী এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে ধারাবাহিক তদন্তের পর মেহেদী ও আরমান হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

এ দিকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা যায় কি না—এখন সেটিই পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এ ঘটনায় আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:০৮:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন মানিক।

গ্রেপ্তার আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, নিহত যুবকের নাম মো. মেহেদী। তার বয়স ১৮ বছর। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নামে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদীকে হত্যা এবং তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মেহেদী হত্যার তদন্ত চলার মধ্যেই নাঙ্গলকোটে আরেক অটোরিকশাচালক নিখোঁজের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একপর্যায়ে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকের সম্পৃক্ততার তথ্যও পায় তদন্তকারী দল।

এরপর মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নাঙ্গলকোটের মেহেদী ও আরমান—দুই অটোরিকশাচালককে হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের অটোরিকশা ছিনতাই করা।

পুলিশের দাবি, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন। পরে তাদের সঙ্গে যাত্রী সেজে বা বিভিন্ন কৌশলে যোগাযোগ করে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই করা হতো।

তদন্তকারীদের মতে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালকদের টার্গেট করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে মানিককে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকের বিরুদ্ধে।

ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফলে অটোরিকশা ছিনতাইকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ডে মানিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ নাঙ্গলকোটের মেহেদী ও আরমান হত্যার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মেহেদী ও আরমান হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা এবং আরও কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মানিকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরপর অটোরিকশাচালক নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় নাঙ্গলকোটসহ আশপাশের এলাকায় অটোরিকশাচালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে অপরিচিত যাত্রী নিয়ে দূরবর্তী এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে ধারাবাহিক তদন্তের পর মেহেদী ও আরমান হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

এ দিকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা যায় কি না—এখন সেটিই পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এ ঘটনায় আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।