ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন রাজিবপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে জেলা এস্তেমা বন্ধের দাবিতে প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত গ্রামবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত এম শহীদ কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু সারের সংকট নেই নীতিমালার বাইরে হলে বাতিল হতে পারে ডিলারের লাইসেন্স : কৃষিমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান : গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি

সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, এ জেলায় বছরে ৫০০ টন সুপারি উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য ২০-২২ কোটি টাকার বেশি।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় অর্থকরি ফসল হিসেবে সুপারির উৎপাদন বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদনে তেমন খরচ না থাকায় জেলার কৃষক নতুন নতুন সুপারি বাগান গড়ে তুলছেন। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, এ জেলায় বছরে ৫০০ টন সুপারি উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য ২০-২২ কোটি টাকার বেশি। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পান উৎপাদনের পাশাপাশি বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুপারি উৎপাদন হয় সাতক্ষীরায়। জেলায় দিন দিনই এ উৎপাদন বাড়ছে।

পাঁচ বছরের ব্যবধানে জেলায় সুপারি আবাদের জমি বেড়েছে প্রায় ২৫০ বিঘা। ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় মোট ১ হাজার ১৫০ বিঘা জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে ৪৫০ টন। কেজিপ্রতি শুকনা সুপারির বাজার দর ৪৫০- ৫০০ টাকা। এ হিসাবে ৫০০ টন সুপারির বাজার মূল্য ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক অরবিন্দু কুমার বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পরিমাণ জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। নারকেল বা অন্য ফসলি গাছগাছালির সঙ্গে মূলত সুপারি গাছ লাগানো রয়েছে। এ সব গাছে ৩৫-৪০ বছর পর্যন্ত ফল আসে। বছরে ৭০-৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করি। স্থানীয় ব্যাপারীরা পাইকারি দরে বাগান থেকে সুপারি পেড়ে নিয়ে যান। আমাদের গ্রামে অন্য কৃষককের পান বরজের পাশাপাশি অনেক সুপারি বাগান রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার পাইকারি সুপারি বিক্রির মোকাম তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারে সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার হাট বসে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর সুপারি আসে এই হাটে। স্থানীয় ছাড়াও পাশের যশোর ও খুলনা থেকেও পাইকার এসে পাটকেলঘাটা বাজার থেকে সুপারি সংগ্রহ করেন। পাটকেলঘাটা বাজারের সুপারি বিক্রির আড়তদার হযরত আলী জানান, প্রতি সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার তার আড়তে ২০-২৫ লাখ টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাটকেলঘাটা থেকে সুপারি ও পান কিনতে আসেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা রাজার বাগান এলাকার সুপারি ব্যবসায়ী প্রণব চ্যাটার্জি বলেন, ‘সুপারি কাঁচা বা শুকনা দুটিরই ব্যাপক চাহিদা। আমি প্রতিদিন প্রচুর পান ও সুপারি বিক্রি করি। প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার জেলার পাটকেলঘাটা থেকে পান ও সুপারি পাইকারি ক্রয় করি। কাঁচা সুপারি প্রতি হাজার ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে কিনতে হয়। এছাড়া শুকনা সুপারি পাইকারি দর যাচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দর।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বর্তমান উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হলেন কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘পান ও সুপারি আমাদের দেশের অর্থকরি ফসল। বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুপারি উৎপাদন হচ্ছে সাতক্ষীরায়। এখন অনেকে বাড়ির বসতভিটার সঙ্গে সুপারি বাগান করছেন আবার কোনো কোনো কৃষক সাথী ফসল হিসেবেও সুপারির সঙ্গে বিভিন্ন ফসল করছেন।

উপকূলের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরার কৃষকরা যেভাবে সুপারি চাষে এগিয়ে আসছেন, তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ খাতের সম্ভাবনা আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :